আমরা দু’ভাই বেঁচে থাকতে আমাদের মায়ের হত্যা কারীদের ফাঁসি দেখে যেতে চাই । আমার নানারও শেষ ইচ্ছা ছিল তার মেয়ের হত্যার বিচার দেখে যেতে কিন্তু তার সে আশা পূর্ণ হওয়ার আগেই সে না ফেরার দেশে চলে যান । এ সরকারের আমলেই যেন মায়ের হত্যা কারীদের বিচার হয় ।

প্রথম দু এক বছর স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা মায়ের মৃত্যু বাষিকী পালনে এগিয়ে আসলেও এখন আর কেউ তাদের খোঁজ খবর রাখেনা , আর ভাগ্যেও জোটেনা কোন প্রকার সাহার্য্য সহযোগিতা এ কথা গুলো আক্ষেপের সুরে বলেন ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গংগাণারায়ন গ্রামের মেয়ে রেজিয়ার দু’পুত্র নুরুন নবী ও হারুন মিয়া ।

তারা আরো জানায় স্থানীয় ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ থেকে দেয়া হয়না কোন প্রকার সাহায্য। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার এক জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ঘটনাস্থলেই মারা যান রেজিয়া খাতুন । দুঃখ জনক হলেও সত্য যে দীর্ঘদিনেও মেয়ে হত্যার বিচার না দেখে রেজিয়ার পিতা আফাজ উদ্দিন (১০০) গত দু’বছর আগে না ফেরার দেশে চলে গেছেন।

রেজিয়ার ছেলে নুর নবী ও হারুন জানায় নানা অনেক আশা করেছিল শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আছেন, আমাদের মায়ের হত্যার বিচার হবে। কিন্তু নানা মায়ের বিচার না দেখেই মারা গেলেন। আমরা মায়ের হত্যার বিচার চাই। তারা জানায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ১৩ইং সালে শেখ হাসিনা তাদের ৮ লাখ টাকা ,এবং ঘটনার পরেই ১ লাখ টাকা মোট ৯ লাখ দিয়েছেন।

সে টাকা দিয়ে জমি ক্রয় ও বন্ধক নিয়ে চাষাবাদ করে খাচ্ছি আমরা দু’ভাই । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট নুরুন নবীর আকুতি তার এক মাত্র কন্যা হালিমাা আক্তার এবারে এইচ এস সি পরীক্ষায় পাশ করেছে তাকে যেন একটি সরকারী চাকুরী দেওয়া হয় । তা হলে তাকে আর সাহার্য্যর জন্য কারো হাত পাততে হবে না।

রেজিয়ার পুত্র কন্যারা আরো জানায়, রেজিয়া ঢাকার আঁগার গাঁও এ ভারতীয় দুতাবাসে ভিসায় ছবি লাগানোর কাজ করত এবং হাজারী বাগ এলাকায় বসবাস করত। ঢাকা মহানগর হাজারীবাগ এলাকার আওয়ামী লীগের নেত্রী আয়শা মোকাররমের হাত ধরে রেজিয়া হাজারীবাগ মহিলা আওয়ামীলীগের কর্মী হয়।

দীর্ঘ একযুগেরও বেশী ঢাকায় আ’লীগের মিছিল মিটিং এ রেজিয়ার ছিল সরব উপস্থিতি। এরই সূত্র ধরে ঘটনার দিন ওই মহিলা নেত্রী নিহত রেজিয়া সহ আরও ২০ জন মহিলাকে সাথে নিয়ে শেখ হাসিনার জনসভায় যোগ দেন। জনসভা চলাকালীন হঠাৎ ভয়াবহ গ্রেনেড বিস্ফোরণে রেজিয়া খাতুনের ঘটনা স্থলে মৃত্যু হয়।

২২ আগস্ট নিহত রেজিয়ার পিতা-মাতা মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ঢাকায় গিয়ে মেয়ের লাশ সনাক্ত করেন, পরে তাকে ঢাকা আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। রেজিয়ার ছেলেদের দাবী তার মায়ের হত্যার বিচার আমার নানা দেখে যেতে পারে নি, কিন্তু আমরা যেন এ সরকারের আমলেই মায়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি দেখতে পাই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য