যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন শহরে হাজার হাজার বর্ণবাদবিরোধী প্রতিবাদকারী ডানপন্থিদের সমাবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

শনিবার ঐতিহাসিক বস্টন কমন পার্কে ডানপন্থিদের ওই সমাবেশে আমন্ত্রিত বেশ কয়েকজন ডানপন্থি বক্তা বক্তব্য রাখেন, কিন্তু এ সমাবেশে অল্পকিছু লোক উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সমাবেশটি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে যায় এবং অংশগ্রহণকারীরা পুলিশ পাহারায় সমাবেশস্থল ছেড়ে যান।

তারা বর্ণবাদ ও অসহিষ্ণুতাকে প্রশ্রয় দিবেন না বলে দাবি করেছেন সমাবেশটির আয়োজকরা।

গত সপ্তাহে এ ধরনের একটি সমাবেশকে ঘিরে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের শার্লটসভিলে ডানপন্থি সমাবেশকারীদের সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় এক নারী নিহত ও বহু আহত হন। তবে বস্টনে পুলিশের সতর্কতায় সে ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরনো পার্কটির চারদিকের সড়কগুলোতে প্রায় ৪০ হাজারের মতো প্রতিবাদকারী জড়ো হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে সমাবেশকারী ও প্রতিবাদকারীদের পৃথক করে রাখে।

এই সমাবেশস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে পরিকল্পনা করেছে পুলিশ। পরিকল্পনা অনুযায়ী পার্কের সমাবেশস্থল ঘিরে ৫০০ পুলিশ অবস্থান নিয়েছিল, তাদের অনেকে মোটরবাইক নিয়ে টহল দিয়েছেন। শার্লটসভিল ও ইউরোপের মতো কোনো গাড়ি হামলা ঠেকাতে পার্কের চারাপাশের রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে সাদা ময়লাবাহী ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখে পুলিশ।

প্রতিবাদকারীরা বস্টনের একটি স্পোর্টস সেন্টারে জড়ো হয়ে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে কমন পার্কের সামনে যেয়ে হাজির হয়। এ সময় সেখানে ৩০ হাজারেরও বেশি প্রতিবাদকারী ছিল বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বস্টন হেরাল্ড।

ডানপন্থিদের সমাবেশে কয়েক ডজনের বেশি লোক হয়নি। দুপক্ষের মধ্যে নিরাপত্তা বেস্টনি বেশ বড় হওয়ায় ও প্রতিবাদকারীদের চিৎকারে ডানপন্থি বক্তাদের কথা তেমন ভালভাবে শোনা যায়নি বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা আগেই সমাবেশটি শেষ হয়ে যায়।

সমাবেশ শেষে পুলিশ পাহারায় পার্ক ত্যাগ করার সময় সমাবেশকারীদের লক্ষ্য করে প্রতিবাদকারীরা ‘লজ্জা, লজ্জা’ ও ‘বাড়িতে যাও’ বলে চিৎকার করে, কেউ কেউ প্লাস্টিকের বোতলও ছুড়ে মারে। সমাবেশে যোগ দেওয়া বেশ কয়েকজনকে প্রতিবাদকারীদের ভিতর দিয়েই পথ করে নিয়ে যায় পুলিশ, এ সময় প্রতিবাদকারীদের কেউ কেউ তাদের থামানোর চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়।

বস্টন পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, কিছু প্রতিবাদকারী দাঙ্গা পুলিশের দিকে পাথর ও প্রশ্রাব ভরা বোতল ছুড়ে মারে, এ সময় কিছুটা হাঙ্গামা সৃষ্টি হলে ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শার্লটসভিলের সহিংসতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের মুখে ফেলেছে। সহিংসতার পর তাৎক্ষণিকভাবে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের নিন্দা না করার জন্য ও পরে উভয়পক্ষের ‘খুব ভাল কিছু লোককে’ প্রশংসা করার কারণে সব দলের রাজনীতিকদের উষ্মার কারণ হন তিনি।

বস্টনের ডানপন্থিদের সমাবেশের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ করার পর এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, “বস্টনের প্রতিবাদকারীদের প্রশংসা করতে চাই আমি, কারণ তারা অসহিষ্ণুতা ও ঘৃণার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। আমাদের মহান দেশ কয়েক দশক ধরে বিভক্ত হয়ে আছে। কখনো কখনো বিভক্তি দূর করতে প্রতিবাদ করতে হয়, আমরা বিভক্তি দূর করবো এবং আগের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠবো!”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য