দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সাবমেরিনের হামলায় ধ্বংস হয়েছিল হিরোশিমায় নিক্ষেপিত পরমাণু বোমার অংশবিশেষ বহনকারী মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। ৭২ বছর পর ইউএসএস ইন্ডিয়ানোপেলিস নামের সেই যুদ্ধজাহাজের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানকারীদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ফিলিপাইন সাগরে ৫.৫ কিলোমিটার নিচে এই জাহাজের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।

৩০ জুলাই ১৯৪৫। পরমাণু বোমা তৈরির উপকরণ মার্কিন বাহিনীর কাছে পৌঁছে দিয়ে ফিরছিল যুদ্ধজাহাজ ইন্ডিয়ানাপলিস। ঠিক তখনই জাপানি সাবমেরিন টর্পেডো হামলা চালায় তার উপর। মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যেই বিশালাকার জাহাজটি ডুবে যায় সমুদ্রগর্ভে। ক্রু মেম্বার ছিলেন ১,১৯৭ জন। তাদের মধ্যে প্রায় তিনশজনের ইন্ডিয়ানাপোলিসের সঙ্গেই সলিল সমাধি হয়। বাকি নয়শজন কয়েকটি লাইফবোটে করে সমুদ্র পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করে। চারদিনের এই যাত্রায় তাদের সঙ্গে ছিল না প্রয়োজনীয় খাবার ও পানি। তার ওপর তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ধরে শত শত হাঙ্গর। শুরু হয় মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হাঙ্গর আক্রমণ। যেখান থেকে প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারেন মাত্র ৩১৭ জন।

ঘটনার সত্তর বছর পরেও অনেক সন্ধান করেও খোঁজ মেলে না ইন্ডিয়ানাপলিসের। অবশেষে ২০১৬ সালে মাইক্রোসফটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পল অ্যালেনের তত্ত্বাবধানে সিভিলিয়ান রিসার্চের একটি দল প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে দেড় হাজার বর্গ কিলোমিটার জায়গা চিহ্নিত করে তল্লাশি শুরু করে। তারাই সম্প্রতি খোঁজ পেয়েছে ওই জাহাজটির ধ্বংসাবশেষের। মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে একক ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণ কেড়ে নেয়া সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতিবাহী জাহাজের সন্ধান মেলে ৭২ বছর পর।

মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা কোটিপতি প্রযুক্তি ব্যবসায়ী পল অ্যালান শুক্রবার এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠানের একটি গবেষণা নৌযান ফিলিপিন সাগরে ইউএসএস ইন্ডিয়ানাপোলিসের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছে। নিজের ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে পল অ্যালান বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা জাহাজটি আবিষ্কারের মাধ্যমে এর সাহসী নাবিক ও তাদের পরিবারকে সম্মান জানাতে পারাটা আসলেই গর্বের। ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে সেসব নাববিকরা যে সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগ দেখিয়েছেন, তার জন্য আমেরিকান হিসেবে আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞতার ঋণে আবদ্ধ।”

পল অ্যালান আরও জানিয়েছেন, জাহাজের বাদবাকি ধ্বংসাবশেষের সন্ধানে তাদের অভিযান চলমান থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে যুদ্ধকালীন ভয়াবহতা সম্পর্কে জানার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য