টানা ক’দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও চিরিরবন্দর উপজেলায় অন্তত ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

সৃষ্ট বন্যায় পানিতে ভেসে গেছে অন্তত ১ কোটি টাকার বিভিন্ন পুকুরের পোনা মাছসহ চাষকৃত মাছ। কৃষিক্ষেত্রে অন্তত ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে দুর্যোগের শিকার হয়েছে অন্তত ৫০ হাজার পরিবার। এরইমধ্যে বন্যার পানিতে ৫৫ টি পাকা, ১ হাজার ৪৪০ টি আধা-পাকা, ৮ হাজার ৬০০ টি কাঁচা, ৮ হাজার ৭০০ টি আংশিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং ৫ হাজার ৫০০ টি বাড়িঘর বিলীন হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুন নাহার জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের অন্তত ৮৬০ হেক্টর জমির পুকুরের পোনা মাছসহ চাষকৃত আনুমানিক ১০ কোটি টাকার মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহমুদুল হাসান জানান, বন্যার পানিতে উপজেলার অন্তত ৭ হাজার ১২১ হেক্টর জমির আমনক্ষেত এবং ২০০ হেক্টর জমির বীজতলা এবং ৫ হেক্টর জমির সবজিক্ষেত ক্ষতির শিকার হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ জানান, বন্যার পানিতে উপজেলার পাঁকা রাস্তার ১২২ কিলোমিটারের মধ্যে ১০ কিলোমিটার এবং কাঁচা রাস্তা ৬৬৯ কিলোমিটারের মধ্যে ৬০০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে অনেক স্থানে বন্যার পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থানীয় লোকজন রাস্তা কেটে দেয়ায় কোন কোন সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও বন্যার পানির তোড়ে ড্রেন-কালভার্টের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে সড়কে ২১ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার এবং বাঁধের ৪ কোটি ৯৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। ওদিকে বন্যার পানির তোড়ে ভেঙ্গে যাওয়া দিনাজপুর-পাবর্তীপুর, রাণীরবন্দর-চিরিরবন্দর, আমবাড়ি-চিরিরবন্দর সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। উপজেলার বানভাসী মানুষের মধ্যে চিড়া, গুড়, পাউরুটি, বিস্কুট বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম রব্বানী জানান, সরকারিভাবে উপজেলার বানভাসীদের জন্য এ পর্যন্ত ৭২ মেট্রিক টন চাল ও সাড়ে ৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিটি পরিবার যতক্ষণ পর্যন্ত ত্রাণ সহায়তা পাবে না ততক্ষণ পর্যন্ত ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রত্যেকটি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে প্রয়োজনে খুঁজে বের করে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি’র নির্দেশে উপজেলার সব ক’টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পাড়াভিত্তিক তালিকা করে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলা আওয়ামীলীগসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীগণ নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন।

এরপরে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্থ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ির মালিকের ছবিসহ বাড়ির ছবি তুলে নেয়া হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারি কর্মকর্তাদের তদারকির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৫ হাজার বর্ন্যাতদের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। কোথাও কোন অনিয়ম হচ্ছেনা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা জানান, বন্যায় আক্রান্তদের বিনামুল্যে খাওয়ার স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। বন্যায় আনুমানিক ৭ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। উপজেলা জন-স্বাস্থ্য উপ সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট সব এলাকাতে বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোঃ আহসানুল হক মুকুল জানান, দলীয়ভাবে সরকারী ত্রান কার্যক্রমে সব রকম সহযোগিতা করা হচ্ছে। আমরা পুরো উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বন্যার সার্বিক চিত্র দেখে ত্রাণ কার্যক্রম আরো বেশ কিছুদিন চালু রাখার পরামর্শ প্রদান করেছি।

এছাড়াও বেসরকারিভাবে আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল সাড়ে ৩ লাখ টাকা, দিনাজপুর হলিল্যান্ড কলেজ আনুমানিক সহ¯্রাধিক পরিবারের মাঝে, বেলতলী বাজার আওয়ামী লীগ ২ হাজার পরিবারে, স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব চিরিরবন্দর (স্যাক) তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় আনুমানিক লক্ষাধিক টাকার ত্রান সামগ্রী, ভেনাস ইন্টারন্যাশনাল লিঃ ৩লক্ষাধিক টাকা, ঈশান এ্যাগ্রো লিমিটেড ৫ লক্ষাধিক টাকা বন্যার্ত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য