মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরে বন্যায় এ যাবত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন বন্যার পানিতে ডুবে, দেয়ার চাপা পড়ে তিনজন ও সাপের কামড়ে দুইজন নিহত হয়েছেন।

এদিকে বন্যার পানি কমে যাওয়ায় অনেকেই নিজ নিজ ঘর-বাড়ীতে চলে গেলেও এখন পর্যন্ত (শনিবার ১৯ আগষ্ট) প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এসব মানুষের বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। দিনাজপুরে স্মরনকালে বন্যায় প্রায় ৬ লাখ দুর্গত মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছিল।

দিনাজপুর জেলা ত্রান ও পূনর্বাসর কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান জানান, জেলায় বন্যায় গত ১২ আগষ্ট হতে ১৭ আগষ্ট পর্যন্ত পানিতে ডুবে, দেয়াল চাপা পড়ে ও সাপের কামড়ে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে পানিতে ডুবে ২৫ জন, দেয়াল চাপা পড়ে তিনজন ও সাপের কামড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।

পানিতে ডুবে নিহত ২৫ জন হলেন-দিনাজপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের লালবাগ এলাকার সিরাজের স্ত্রী নবিরন নেছা (৪৫), ৪নং ওয়ার্ডের মির্জাপুর বাস টার্মিনাল এলাকার গফ্ফার আলীর ছেলে নাঈম আলী (০৮), সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের দরবারপুর গ্রামের মইনুল হকের ছেলে চান মিয়া (৫১), বীরগঞ্জ নিজপাড়া ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের টেপু মুন্সির ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (০৪), একই ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আলির ছেলে হাসান আলী (৫৮), বিরল উপজেলার রাজারামপুর ইউনিয়নের হাসিলা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে শহীদ আলী (১৫), তার দুই মেয়ে স্মৃতি (০৭) ও চুমকি (১৩), একই গ্রামের আবু সাঈদ আলীর ছেলে সিহাদ (০৭), বীরগঞ্জ পৌরসভার সুজালপুর গ্রামের মো. ইসলামের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৮), বিরল উপজেলা রাজারামপুর ইউনিয়নের রাজারামপুর গ্রামের সুপই মুর্মুর মেয়ে মুকিয়া মুর্মু (৫৫), সদর উপজেলার আস্করপুর ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মো. তরিকুল ইসলাম (২৮), একই উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের পশ্চিম শিবরামপুর গ্রামের আহাম্মদ হোসেনের মেয়ে শাপলা (১৪), নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের কুশদহ গ্রামের মতিয়ার (৫৭), বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের রাখালীপাড়া গ্রামের রমজান আলীর ছেলে আমির হামজা (০৪), চিরিরবন্দর উপজেলার ইশবপুর ইউনিয়নের উত্তর নওখোর গ্রামের মৃত শমসের আলীর ছেলে ফজির উদ্দিন (৬০), একই উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের নান্দ্রেরাই গ্রামের ইমান আলীর মেয়ে রিনা আকতার (১০), একই উপজেলার চিরিরবন্দর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের আনিসুর রহমানের ছেলে আরাফাত (০৭), একই উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের বড় শ্যামনগর গ্রামের মৃত হাফেজ উদ্দিনের স্ত্রী মাজেদা বেগম (৬৫), বিরল উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের পশ্চিম পলাশবাড়ী গ্রামের সরবত আলীর ছেলে আব্দুস সাত্তার (৪৮), একই উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ফুতিগাঁও গ্রামের আফসার আলীর ছেলে মো. মাহফুজুর রহমান (২৫), কাহারোল উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেছে মৌ (০৬), পার্বতীপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের নামাপাড়া গ্রামের মৃত আছির উদ্দিনের ছেলে আতাবুর রহমান (৬০), একই উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে দুলাল মিয়া (৩২) ও একই উপজেলার বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের সোনাপুকুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. হেলাল উদ্দিনের ছেলে মো. মোস্তাকিম সরকার (০৯)।

এছাড়া বন্যার কারণে দেয়াল চাপা পড়ে নিহত তিনজন হলেন- কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়াবাদ বাশপাড়া গ্রামের অজিত চন্দ্র দাসের ছেলে অধরা দাস (৪৫), নবাবগঞ্জ উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের মুটিমারা গ্রামের মৃত কেসকেরা’র ছেলে জোনাব আলী (৫৫) ও বিরল উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের কামদেবপুর গ্রামের ওবায়দুর রহমানের ছেলে মো. স্বপন (১৩)।

অপরদিকে বন্যার কারণে সাপের কামড়ে নিহত দুইজন হলেন- বিরল উপজেলার রাজারামপুর ইউনিয়নের মালঝার গ্রামের বাবুল চন্দ্র রায়ের স্ত্রী দিপালী রানী (৩২) ও একই উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের কামদেবপুর গ্রামের সাজিদুল ইসলামের ছেলে নাদিম (১৪)।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য