ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও, এখনো আশ্রায় কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ী ফিরতে পারেনি, বিভিন্ন আশ্রায় কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া, উপজেলার সাত’শ পরিবার। বিভিন্ন স্কুল কলেজে আশ্রয় নেয়া পরিবার গুলো, একই ঘরে গাদা-গাদি করে বসবাস করছেন, সাত থেকে আটটি পরিবারের ৩০ থেকে ৩৫ জন সদস্য।

এদিকে আশ্রায় কেন্দ্রের বাহিরে থাকা বন্য্ াকবলিত প্রায় পাচঁ’শটি পরিবার, সরকারী সুযোগ সুবিদা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জিবন যাপন করছেন।

শনিবার উপজেলার শহরতলি, শিবনগর ইউনিয়নের শহীদ স্মৃতি আর্দশ্য ডিগ্রী কলেজে গিয়ে দেখা যায়, রাজারামপুর ঘাটপাড়া গ্রামের কোহিনুর বেগম আশ্রয় নিয়েছে, এই অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে, তার সাথে আশ্রয় নিয়েছে কোহিনুর বেগমের ছেলে সেকেন্দার, সেকেন্দারের স্ত্রী, মেয়ে ফজিলা বেগম, ফজিলা বেগমের স্বামী নুরুজ্জামান। তারা একই ঘরে বসবাস করছেন, ও তাদের সাঙ্গে একই ঘরে বসবাস করছেন, একই গ্রামের মিন্টু মিয়া, মিন্টু মিয়ার স্ত্রীসহ আরো তিনটি পরিবার। সুধু কোহিনুর বেগম নয়,শহীদ স্মৃতি আর্দশ্য ডিগ্রী কলেজের সাত-আটটি ঘরে বসবাস করছেন ৬৫টি পরিবার। একই অবস্থা পার্শবর্তী কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়া আরো ৫৫টি পরিবারের।

আশ্রয় নেয়া কোহিনুর বেগম জানালেন, গ্রামে তাদের পৃথক তিনটি বাড়ী ছিল, ইতিমধ্যে একটি বাড়ী সম্পুর্ন ভাবে ভেঙ্গে গেছে, বাকি দু’টি বাড়ীর একটি ঘর ভেঙ্গে গেছে, ভাঙ্গার উপক্রম বাড়ীর বাকি অংশ টুকুও। আশ্রয় কেন্দ্রে ছেড়ে তারা উঠবে কোথায় তার কোন নিশ্চয়তা নাই। এই অবস্থা সুধু তোহিনুর বেগমের নয়, আশ্রয় নেয়া সব কটি পরিবারের।

উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের গণিপুর গ্রামের প্রায় ২৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে, গ্রামের অধিকাংশ বাড়ী বন্যায় ভেঙ্গে গেছে, তারাও চোখে শর্শের ফুল দেখছে।

এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলার প্রায় পাচঁ’শটি পরিবার, তারা আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান না নিয়ে, পার্শবর্তি কোন নিকটাত্মীয়দের বাসায়, কিংবা গ্রামের কোন প্রতিবেশিদের বাসায় আশ্রয় নিয়েছে, কিন্তু আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান না নেয়ার কারনে তারা সরকারী সুযোগ সুবিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, সরকারী সুযোগ সুবিদা না পেয়ে, তারা এখন পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জিবন যাপন করছেন।

আশ্রয় কেন্দ্রে ত্রান নিতে আসা রাজারামপুর মাসুয়া পাড়া গ্রামের আশেদা বেগম জানান, তার বাড়ীতে বন্যার পানি উঠায়, সে আশ্রয় নিয়েছে তার প্রতিবেশি আলিমুদ্দিনের বাড়ীতে, একই ভাবে প্রতিবেশিদের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে, একই গ্রামের সহিদা বেগম এর পরিবার, সামছুল হকের পরিবারসহ গ্রামের প্রায় ৩০টি পরিবার। তারা কোন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান না নিয়ে প্রতিবেশি ও নিকটাত্মীয়দের বাড়ীতে অবস্থান নিয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান না নেয়ায় এখন তারা সরকারী ত্রান পাচ্ছেন না। একই অবস্থা রাজারামপুর ফকিরপাড়া, ঘাটপাড়া, ও পৌর এলাকার হাসপাতাল নামা পাড়ার বাসীন্দারা। তারা আশ্রয় কেন্দ্রে কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান ত্রান বিতরন করতে আসলে, তারা ত্রান নিতে ছুটে আসেন। আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া বাসীন্দাদের মাঝে ত্রান বিতরন করার পর যা বাচেঁ সে টুকুই তাদের মাঝে বিতরন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এহেতেশাম রেজা বলছেন, প্রথম অবস্থায় আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া, সাত’শ পরিবারের তালিকা করা হয়েছে, কিন্তু পরবর্তি সময়ে জানা গেছে আশ্রয় নেয়া পাবারের বাহিরে ক্ষতিগ্রস্থ আরো পরিবার আছে, এজন্য তাদেরকে বিকল্প উপায়ে ত্রান দেয়া হচ্ছে।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হওয়ার সাথে সাথে বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব, পানিবাহীত ও ডায়রিয়া জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, শিশু ও বয়স্করা।

সরজমিনে দেখাযায় উপজেলার অনান্য এলাকার বন্যার পানি নেমে গেলেও, শাখা যমুনা নদির পানি কমে না যাওয়ায়, নদি এলাকার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে। উপজেলা পানি উন্নায়ন বোড বলছেন, মুল যমুনা নদির পানি বৃদ্ধি পেয়ে, দেশের মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায়, শাখা যমুনা নদির পানি কমছেনা, ফলে নদি এলাকার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকছে। নদি বিষয়ে অবিজ্ঞজনেরা বলছেন, দেশের মধ্যাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত, এই পরিস্থিতি দির্ঘ সময অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য