আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: পানির ওপর মাথা উঁচু করে আছে বাঁধ, বাঁধের দু’ধারে ছুঁই ছুঁই বানের পানি। বন্যার কড়াল গ্রাস থেকে বাঁচতে সেই বাঁধের ওপরে ঠাঁই নিয়েছে দুর্গত মানুষেরা। কিন্তু তারা বলছেন, এই বেঁচে থাকা স্বস্তি দেয় না। প্রতিটি মুহূর্ত্ব যেন প্রচণ্ড যন্ত্রণা। গবাদি পশুর সঙ্গে গাদাগাদি করে বেঁচে থাকা জীবনে এখন আর কারো করুণা চান না তারা, খাদ্যেরও আগে চাচ্ছেন সম্ভ্রম রক্ষার নিশ্চয়তা।

পরিবারের নারী ও মেয়েদের শৌচাগার পেলেই যেন আপাদত বর্তে যাবেন বাঁধগুলোতে আশ্রয় নেওয়া পুরুষেরা।লালমনিরহাটের সদর উপজেলার ধরলা নদী বেষ্টিত কুলাঘাট ইউনিয়নের কুলাঘাট পাকার মাথা ওয়াপদা বাঁধের ওপর মানবেতর জীবনযাপন করছেন বানভাসি মানুষেরা। সেখানে শতাধিক মানুষের আশ্রয় হলেও নেই বিশুদ্ধ পানি ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা।

বিভিন্ন বাঁধের ওপর অস্থায়ী একচালা ঘর তুলে আছেন জেলার ৩৫টি ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত মানুষেরা।বাঁধে আশ্রিতরা জানান, কুলাঘাট পাকার মাথা বাঁধের উপর ৫০টির বেশি গৃহহীন পরিবার বসবাস করছেন। ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয় নেওয়া রমজান আলী (৬৫) বলেন, ‘আমার ৮ সদস্যের পরিবার। তাদের নিয়ে কয়েক দিন থেকে ওয়াপদা বাঁধটির উপর একটি খোলা ঘরে আছি। কোথাও যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।’

রমজান আলীর পরিবারের পাশে থাকা আজিজুল ইসলাম ও রুবিয়া খাতুন বলেন, ‘এ পর্যন্ত ধরলার ভাঙনে ৪ বার নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে বাড়ি। এবারের বন্যায় কিছুই বাঁচাতে পারিনি। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাই বাঁধের উপর আপাত আছি। ঘরে বয়স্ক ও অসুস্থ্য শ্বাশুড়ী এবং ১২ বছরের একটি ছেলে আছে। মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে যা পাই তা দিয়ে কোনো রকম সংসার চালানোর চেষ্টা করছি।’ আজিজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমার বাবার ৩৫-৩৬ বিঘা জমি ছিল সবই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন আমরা ভাইয়েরা সবাই নিঃস্ব হয়ে গেছি, ভিটে-মাটিও নাই।’

লালমনিরহাট জেলা (ভারপ্রাপ্ত) ত্রাণ কর্মকর্তা সুজাদ্দৌলা বলেন, ‘ ১লাখ ২ হাজার ৭৫০টি বন্যা দুর্গত পরিবারের জন্য ইতোমধ্যে ৩৮২ মেট্রিকটন জিআর চাল ও ১২ লাখ ৯৫ হাজার জিআর টাকা ও ১৭শ শুকনা খাবার প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য