আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: বয়সের ভারে নূইয়ে পরেছে মাথা, তবু শিড় দ্বারা টান করে ৭০ ছুঁই ছুঁই বয়সে ও রিক্সার প্যাডেল চেপে চলেছেন রমজান আলী। চোখে মুখে ক্লান্তির ছোয়া, দেহের শক্তি ও চোখের জ্যোতি লোপ পেতে শুরু করেছে। হাতের রগ গুলো ও ফুলে উঠেছে।বয়সের ভারে চামড়া ও বটতে শুরু করেছে।

তবু জীবন সংগ্রাম অতিবাহিত করতে এ বৃদ্ধ বয়সেও রিক্সা চালিয়ে জীবন যাপন করছেন তিনি। সংসার নামক বটবৃক্ষের তলায় পৃষ্ট রমজান আলী-সংসারের ঘানি টানতে এ বৃদ্ধ বয়সে ও রিক্সা চালাতে হচ্ছে।

রমজান আলী বাড়ি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিংগীমারী এলাকায়।রমজান আলীর দুই ছেলে।বড় ছেলে বিয়ে করে আলাদা খায়।ছোট ছেলে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করে। ছোট ছেলে কিছু টাকা পাঠালেও তা সংসার ও ঔষধ কেনার জন্য যাতেষ্ট নয় বলেই এ বৃদ্ধা বয়সে রিক্সার পেডেল মেরেই সংসার চালাতে হয়।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হলে,রমজান আলীর দুঃখের কথা গুলো বলতে শুরু করেন।বাবা আমার ছবি তুলবেন। বাসা থিকা একটা পরিক্সার জামা পইড়া আসি! কিছু লাভ হইবো তো বাবা! এমন করেই আবেগময় কথাগুলো বলছিলেন রমজান আলী।রমজান আলী প্রতিদিন হাতীবান্ধা উপজেলার শহরে রিস্কা চালিয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করেন।

এই টাকা থেকেই রিক্সা ভাড়াও প্রদান করতে হয়। এ টাকায় চলে তার সংসার।রমজান আলী খুব গর্ব করে বলেন, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্ট করে রুজি করে খাই। সংসারে অভাব। তবু খারাপ কাম করি না বাপু। নূন আনতে পান্তা পুড়ায়-তবু হালাল রুজি কইরা চলি। অহন আর বয়সের ভারে রিক্সা টানতে পারি না বাপু।

হেদিন দেহেন না রিক্সা থিকা পইড়া হাত ছোলাইয়া ফালাইছি। ভালা-মন্দ খাইতাম পারি না। পোলা-পাইন গুলারেও ভালা মন্দ খাওয়াইতাম পারি না। শইল্লে শক্তি ও নাই। মানুষ তো জোয়ান রিক্সা চালক খোঁজে। অহন তো আমার কদর কম! ঠিক তখন ৭০ উর্ধ বৃদ্ধ বয়সের রমজান আলী রিক্সা চালিয়ে প্রমাণ করেছেন ভাল কাজ করে ও জীবন চালিয়ে নেয়া যায়।হয়তো সংসারে অভাব।

দু’বেলা ঠিকমত জোটে না দু’মুঠো খাবার।তবুতো সৃষ্টি কর্তা রমজান মত মেহনতী মানুষদের জীবন যুদ্ধে আজ ও টিকিয়ে রেখেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য