মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ একেই বলে মা” ছেলেকে পুলিশ ধরেছে তা শুনে কান্নায় এই সব কথা বলেন বৃদ্ধা মা। সেদিন খুব ক্ষুধা লেগেছিল। তাই বউমার কাছে ভাত খেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নাতীর জমি খান লিখে দিবার রাগে মোর আমার ছেলে ও বউমা আমাকে মারছে। চোখে আঘাত করেছে। পরে বাড়ি থেকে বাহির করে দিসে।

মুই চাও না ছুয়াডাক পুলিশ মারুক (আমি চাই না পুলিশ আমার ছেলেকে যেন না মারে)। ছুয়াডাক জন্ম দিয়া বড় করতে, কত কষ্ট হয়ছে (হয়েছে) মুই (আমি) ছাড়া কই (কেউ) কহিবা (বলতে) পারিবেনি (পারবে না)।

বৃহস্পতিবার রাতে বৃদ্ধা মা ছেলেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে কথা শুনে নির্যাতিত বৃদ্ধা মা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এ সব কথা বলেন।

ওই নির্যাতিতা বৃদ্ধা ‘মা’ সমাজে আবারো প্রমান করলেন যে ‘সন্তান যত অপরাধ করুক না কেন, মায়ের কাছে সন্তানের কোন অপরাধ অপরাধ নয়”।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় বউমার কাছে ভাত চাওয়ায় মাকে নির্যাতনের অভিযোগে ছেলে বদির উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

১৫ আগষ্ট মঙ্গলবার দুপুরে ছেলের বউয়ের কাছে ভাত চেয়েছিলেন। একথা দবির উদ্দীন জানতে পেরে লাঠি দিয়ে মাকে নির্যাতন করেন। লাঠির আঘাতে তসলিমার বাম চোখ থেঁতলে গেছে।

বুধবার সকালে জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল এবং ইত্তেফাক প্রতিনিধি ওই বৃদ্ধা মাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে বৃদ্ধা মা ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জানা গেছে, ছেলের হাতে নির্যাতিতা তসলিমার স্বামী সফির উদ্দীন ৩০ বছর আগে মারা যান। তিনি ছেলেদের জায়গা জমি দিয়ে গেছেন। কিন্তু তারা তাদের মাকে সেই দেখভাল করতে অনীহা প্রকাশ করে আসছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য