ফুলবাড়ী সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের বাংলা হিলি স্থলবন্দরের গত ১৫ দিন ধরে আটকে থাকা আমদানি করা চাল এখনো খালাস করা হয়নি। চাল আমদানিতে শুল্ককর কমছে সরকারের এমন বক্তব্যের আশায় খালাস কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন এই বন্দরের আমদানিকারক ব্যবসায়িরা।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম চাল আমদানিতে থাকা শুল্ককর ১০ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান। ব্যবসায়িরা বন্দর থেকে প্রতিদিন ৫/৬টি ট্রাক থেকে চাল খালাস করলেও এই ঘোষনার পর খালাস কার্যক্রম বন্ধ রাখেন বাংলা হিলির ব্যবসায়িরা।

বন্দরের আমদানিকারক ব্যবসায়িরা জানান, শুল্ককর কমানোর আগে আটকে থাকা চাল ছাড় করা হলে ব্যবসায়িরা আর্থিক ভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই শুল্ককর কমলে ছাড় করা হবে এসব চাল। এতে সময় পার হলেও ব্যবসায়িক ভাবে লাভবান হবেন এমন আশায় আছেন ব্যবসায়িরা।

আমদানিকারক ব্যবসায়ি সেলিম রেজা জানান, লাভ না হলেও সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য ব্যবসায়িরা প্রতিদিন এই বন্দরের মাধ্যমে ভারত থেকে চাল আমদানি করছেন। কিন্তু লোকসান করে তো আর আমদানি করা যাবে না? তাই ১৪-১৫ দিন ধরে ব্যবসায়িরা শুল্ক কমের আশার অপেক্ষায় আছেন, এখনি শুল্ককর কমের কাস্টমসে আদেশ আসলে বন্দর থেকে চাল খালাস করে নিবেন তারা।

বন্দরের ব্যবসায়ি শফিকুল ইসলাম জানান, সরকার শুধু একের পর এক ঘোষনা দিয়ে ব্যবসায়িদের আশায় রাখছেন। কার্যত কোনো ঘোষনা বাস্তবায়ন করছেন না। আমরা চাই সরকার চাল আমদানির উপর থেকে ১০ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ করার যে ঘোষনা দিয়েছেন তা দ্রুত বন্দরের কাস্টমস কার্যালয়ে আদেশ পাঠালে আমরা চালগুলি খালাস করে নিতে পারি। এতে করে সাধারণ মানুষেরা ৩৫ টাকার নিচে চাল কিনতে পারবে এবং বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বেড়ে যাবে। না হলে চালের লাগামহীন মুল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না এবং এই বর্ষা মৌসুমে আরও দাম বৃদ্ধি পাবে।

বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্টের ব্যবস্থাপক অসিত কুমার জানান, গত ১৪-১৫ ধরে বন্দরের পানামা েেপার্টে ৪৫০টি ভারতীয় ট্রাকে সাড়ে ১৩ হাজার মোট্রিকটন আমদানি করা চাল খালাসের অপেক্ষায় আটকে আছে। শুনেছি সরকার চালের উপর বিদ্যমান থাকা ১০ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করবে। এমন আশায় ব্যবসায়িরা চাল খালাস কার্যক্রম বন্ধ রেখেছন।

বন্দরের কাস্টমস সুপারিনটেনডেন্ট মো. ফকর উদ্দিন জানান, শুনেছি চাল আমদানির উপর থেকে ৮ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো আদেশ আমাদের কাছে এখানো আসেনি। বর্তমানে ১০ শতাংশ শুল্ককর দিয়ে অল্প পরিমাণে চাল খালাস করে নিচ্ছেন ব্যবসায়িরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য