আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে নদ-নদী গুলোর পানি কমে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে ঠিকই। তবে বন্যার্ত লোকজনের দুর্ভোগ তার চেয়ে বেশী বেড়ে গেছে। চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে। রেলপথ ভেঙ্গে যাওয়ায় সারাদেশের সাথে লালমনিরহাটের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

সোমবার রাতে আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের কিসামত খুটামারী এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে নুরুল ইসলাম মুন্সি নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের পুর্ব বরুয়া গ্রামের পানিতে ডুবে নিখোঁজ ৪ জনের লাশ পাওয়া গেছে।বন্যা কবলিত এলাকা গুলোর রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

গোটা জেলার লক্ষ লক্ষ একর জমির আমন ধান ক্ষেত পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অসংখ্য মৎস্য খামারের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ায় মাছ চাষীদের মাথায় হাত পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে দুই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যা কবলিত এলাকা গুলোতে পানি বাহিত রোগ ছড়িয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর মাঝে যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। বন্যার্ত নিম্ন আয়ের লোকজনের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে লোকজন চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট, রাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তা ও ধরলা নদীর তীরবর্তী বন্যা কবলিত একাধিক মানুষ জানান, বন্যার পানি নেমে গেলেও এখন আমাদের দুর্ভোগ বহু গুনে বেড়ে যাচ্ছে।পানিতে নিচে তলিয়ে থাকার কারনে ধান ক্ষেত পচে যাচ্ছে, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। পরিবার পরিজনদের নিয়ে আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি। সেই সাথে বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন নেয়ার কারনে কিস্তির জন্য তারাও চাপ প্রয়োগ করছে। আমাদের মাঝে বিভিন্ন রোগ বালাই দেখা দিচ্ছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার চর ডাউয়াবাড়ী এলাকার সামসুল আলম বলেন, বন্যার পানির চাপে এলাকার সকল রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে গেছে ফলে চলাচলে আমরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছি। এছাড়া বসত-বাড়ীর মাটি ভেজা থাকার কারণে রান্না করা যাচ্ছে না। সব মিলে আমরা চরম বিপাকে আছি।বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লে. তানজিম হাসান রাহাত বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় লালমনিরহাটের আদিতমারী ও হাতীবান্ধায় সেনা বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। আমরা বন্যার্ত লোকজনের সব প্রকার সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা উন্নতি হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। আমরা প্রতিটি বন্যার্ত পরিবারকে সহায়তা দিতে চেষ্টা করছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য