দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে বন্যার পানি কমতে শুরু করছে। তবে এখনো অনেক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এসব বানভাসী মানুষ ৩৮৪টি কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। যেসব এলাকায় পানি নেমে গেছে সেসব এলাকার লোকজন ঘর-বাড়ীতে উঠতে শুরু করেছে।

এদিকে পানি নেমে যাওয়ার সাথে বেড়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য সংকট। মানুষের পাশাপাশি গোবাদিপশুর খাদ্যর সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বর-সর্দি, কাশি, আমাশয়, ডায়রিয়া, পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদূর্ভাব দেখা দিয়েছে বানভাসী মানুষের।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বানভাসি মানুষের জরুরী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ১৮৩টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এসব টিম বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে।

এছাড়া দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে বানভাসির মানুষের জন্য বিনামূল্যে জরুরী চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে বলে জানান তিনি। বেসামরিক প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং বিজিবি বানভাসী মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে।

দিনাজপুর জেলা ত্রান ও পণর্বাসন কর্মকতা মো. মুখলেসুর রহমান জানান, বন্যায় এ পর্যন্ত জেলায় ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পানিতে ডুবে, সাপের কামড়ে ও দেয়াল চাপায় তাদের এসব মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী রাতভর বন্যা দুর্গত মানুষের সাহায্যে কাজ করে যাচ্ছে। ৫০ মিটার ভেঙে যাওয়া দিনাজপুর শহররক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজও চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনীর বিশেষ দলটি।

বন্যায় দিনাজপুরের অধিকাংশ সড়ক ও মহাসড়ক পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় এসব মহাসড়কের অধিকাংশ স্থান ভেঙ্গে গেছে। এতে দিনাজপুর জেলার সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলাসহ ঢাকার সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। বুধবার কয়েকটি স্থানে রাস্তার পানি সড়ে যাওয়ায় সংক্ষিপ্ত আকারে যানবাহন চলাচল করছে। রেল লাইন ডুবে যাওয়ায় গত ৫ দিন ধরে বিচ্ছিন্ন রয়েছে পাবর্তীপুর-পঞ্চগড় রেল যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে।

দিনাজপুর জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুজ্জামান জানান, বন্যার কারণে জেলার ২৬৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা মো. চান মিয়া জানান, বন্যার পানি উঠায় জেলায় ২৭২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষাকার্যক্রম সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে।

দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জানান, পৌরসভার পক্ষ থেকে পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের ৯৩টি কেন্দ্রে বানভাসি মানুষের জন্য খিচুরী ও বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

দিনাজপুর পানি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন অফিসার মো. সিদ্দিকুজ্জামান জানান, বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত পূণর্ভবা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার, আত্রাই নদীর পানি ২ মিটার ও ইছামতি নদীর পানি বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে পানি কমে যাবে বলে জানান ওই কর্মকতা।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নগদ ১১ লাখ টাকা, ২৭৫ মেট্রিক টন চাল ও দু’হাজার প্যাকেট (চিড়া, গুড়, মুড়ি, বিস্কুট) শুকনো খাবার বন্যাদুর্গতদের মাঝে বিতরণ করেছে। এছাড়াও বন্যার্তদের জন্য ৫০ লাখ টাকা এবং ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ চেয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এবং আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চেীধূরী এমপি বন্যার্তদের খোঁজ-খবর দেয়ার পাশাপাশি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, ব্যবসায়ীমহল ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বন্যার্ত মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য