মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপরের ছেলে দারা নির্যাতিতা মায়ের সকল দায়িত্ব নিতে চান ইত্তেফাক ও ইনডিপেন্ডেট টেলিভিসন এর জেলা প্রতিনিধি-তানভির হাসান তানু। একজন বৃদ্ধা মায়ের কষ্ট দেখে সইতে না পেরে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনটিই লিখেছেন তিনি।

“মা “তোমার দায়িত্ব আমিই নিব………
মানব শিশু’র জন্ম হয় মায়ের গর্ব থেকে, আবার সেই মায়ের কোলেই তার বসবাস। আর অন্য সব সৃষ্টির চেয়ে মানব শিশূ খুব দুর্বল হয়ে জন্ম নেয়। তার নিজের কোনকিছু করার মত তেমন ক্ষমতা থাকে না। পারেনা সাথে সাথে সে কথা বলতে, নিজের প্রয়োজন ও সমস্যা অন্য কাওকে বোঝাতে। এই বোঝাতে না পারা শিশুর সমস্ত প্রয়োজন কেউ বুঝতে না পারলেও, বুঝতে পারে কেবল একজন মা। মাকে এই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ হতে।

মা অনেক কষ্ট করে প্রায় দশ মাস পেটে আগলে রাখে প্রিয় সন্তানকে, পৃথিবির নতুন মেহমানকে। নিজের জীবনের চেয়ে সন্তানকে বেশী ভালোবাসে। এই ভালোবাসার কারনে অনেক মা সন্তান প্রসব কালে নিজের জীবন দিয়েও তা প্রমান করেছে অনেকবার।

একজন জীবন্ত মানুষের পেটে আর একজন মানুষকে বয়ে নিয়ে সব কাজ সম্পাদন করা যে কতটা কষ্টকর, তা মা ছাড়া আর কেউ অনুভব করতে পারবে না। যদি কাউকে হাজার হাজার টাকার বিনিময়ে একটা ইট পেটে বেঁধে নিয়ে মাত্র এক সপ্তাহ চলাফেরা করতে বলা হয়, তবে আমার জানা মতে এ জগতে এমন কাউকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু হাজার কষ্ট সহ্য করে নিজ গর্বে সন্তানকে আগলে রাখে পরম যতেœ মাসের পর মাস ধরে এই জগতের শুধু মা।

মা, দুনিয়ার সবচেয়ে মধুর একটি নাম । হাজারও ব্যাথা ভুলে থাকা যায় শুধু মা ডেকে । সেজন্যই কবি বলেছেন “মায়ের আঁচলে যতক্ষন থাকবি ততক্ষনই শান্তি”। মা ডাকের উচ্চারণগত বৈশিষ্ট লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দুই ঠোট এমন ভাবে মিশে যায়, যা অন্য কোন ডাকে হয়না।

কিন্তু আজ আমি একজন মায়ের সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহন করে খুবই লজ্জিত বোধ করছি।

ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার ৪নং ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের পাষন্ড ছেলে বদিরউদ্দীন (৬০) তার গর্ভধারিনী মা তাসলেমা খাতুন (৯৮) কে শারীরিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।

গ্রামবাসীর কাছ থেকে জানতে পারি, বৃদ্ধা তাসলেমা খাতুনের স্বামী মারা যাওয়ার ৩০ বছর আগে। মারা যাওয়ার সময় তার স্বামী দুই ছেলে দুই মেয়ে রেখে যায় এবং দুই ছেলের নামে ৩ একর ৩০ শতাংশ জমি দলিল করে দেয় । বড় ছেলের ছেলে (নাতি) চালাকি করে বৃদ্ধা তাসলেমা খাতুনের কাছ থেকে দলিল করে নেয়। বৃদ্ধা তাসলেমা খাতুন চোখে ঠিক মতো দেখে না, কানে তেমন শোনে না, মুখে কথা বলতে পারে না।

(১৫ই আগষ্ট) মঙ্গলবার সকালে বৃদ্ধা তাসলেমা খাতুন ক্ষুধার্ত ছিলেন তখন তিনি বড় বউমার কাছে ভাত চাইতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রামবাসীরা জানান, খাবার চাওয়াকে কেন্দ্র করে বউয়ের কথায় ছেলে বদিরউদ্দীন বৃদ্ধা মায়ের মুখ বরাবর আঘাত করে। ঘটনাস্থলে বৃদ্ধা মায়ের বাম চোখের নিচের অংশ রক্তাক্ত হয়ে যায়। নির্যাতন শেষে বাড়ির বাহিরে ফেলে রেখে যায়। তখনি গ্রামবাসীরা বৃদ্ধা মাকে অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে ভর্তি করে।

হরিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, রোগীর অবস্থা খুব খারাপ তাঁকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠাতে হবে।

আমিও একজন সন্তান হিসেবে দাবি জানাই, এই ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন পাষন্ড ছেলে বদিরউদ্দীন ও তার বৌ কে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসে।

আর হরিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওই বৃদ্ধ মাকে ঠাকুরগাঁও হাসপাতাল পর্যন্ত নিয়ে আসার জন্য সিভিল সার্জন ডা: আবু মো: খায়রুল কবিরকে অনুরোধ করছি।

আমি নিজে সেই মা এর চিকিৎসাসহ সকল দায়িত্ব নিতে চাই। দ্রুত ওই বৃদ্ধ মায়ের চিকিৎসা প্রয়োজন। হরিপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেউ থাকলে প্লিজ আমাকে জানান।

সাংবাদিক তানভির হাসান তানু হরিপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত্রার কাছে সেই বৃদ্ধা মায়ের জন্য আইনি সহযোগিতা চাইলে, এই রিপোটি লেখা পর্যন্ত হরিপুর থানার ওসি- রুহুল কুদ্দুস সাহেব তিনি কোন ধরনের সহযোগিতা করেননি এবং সহযোগিতার আশ্বাসও দেননি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য