দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরো উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। বুধবারের মধ্যেই শহর ও গ্রামাঞ্চলের পানি নিচে নেমে যাবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে। পূর্ণভবা ছাড়া সব নদীর পানি বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে বন্যার পানিতে নিখোজ হওয়া ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। চিরিরবন্দরে মারা গেছে আরো ৪ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ২২ এ দাড়িয়েছে। তবে বেসরকারী হিসেবে মৃতের সংখ্যা ২৬ বলে জানা গেছে।

দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মকর্তা মাহবুব আলম জানান, দিনাজপুর পূর্ণভবা নদীর বিপদসীমা ৩৩.৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবারের মধ্যেই শহর ও গ্রামাঞ্চলের পানি সম্পূর্ণ নিচে নেমে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানান, বানভাসি মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৬২ মে. টন চাল বিতরণ করেছে জেলা প্রশাসন। সেই সাথে বিতরণ করা হচ্ছে নগদ ৭ লাখ টাকা। বন্যার পানিতে নিখোজ হওয়া ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন-দিনাজপুর জেলা সদরের সুইহারী রহমতপাড়া এলাকার আজাদ মিয়ার ছেলে হুমায়ুন আহমেদ (১৬), বিরল উপজেলার গড়বাড়ী এলাকার সুরাই মুর্মুর মেয়ে মালিয়া মুর্মু (৫৯) ও একই উপজেলার ভুমিগাঁও এলাকার আফসার আলীর ছেলে মাকসুদুর রহমান (২০)।

জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বরত ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান জানান, মঙ্গলবার চিরিরবন্দর উপজেলায় ২ শিশুসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে চিরিরবন্দর উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের নান্দেরাই গ্রামের ইমান আলীল কন্যা রিনা আক্তার (১০), উত্তরপাড়া গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে আরাফাত (৭) ও ইউসুফপুর ইউনিয়নের উত্তর নওগোর গ্রামের সমশের আলীর ছেলে ফজির উদ্দিন (৬০) পানিতে ডুবে ও অমরপুর ইউনিয়নের বড় শ্যামনগর গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দীনের স্ত্রী মাজেদা বেগম (৬৫) দেয়াল চাপা পড়ে মারা গেছে।

এ নিয়ে এই দিনাজপুর জেলায় নিহতের সংখ্যা দাড়ালো ২৬ জনে। তবে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বরত ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান এ পর্যন্ত ২২ জন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য