চিরিরবন্দরে ভয়াবহ বন্যায় মানুষজনসহ গবাদি পশু চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বন্যার ভেসে যাওয়া ৩ শিশুর মধ্যে একটিকে জীবিত, একটিকে মৃত ও একটির মরদেহ পাওয়া যায়নি। এঘটনায় পরিবারের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টানা ৪ দিনের বর্র্ষণে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন প্লাবিত ছাড়াও বন্যায় রাস্তাঘাট, বিদ্যালয় মাঠ, বিভিন্ন ফসলি জমি, পুকুর, নদী, খাল-বিল,ডোবা-নালাসহ বিভিন্ন রাস্তাঘাট,সড়ক ও মহাসড়ক হাটু পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

উপজেলার নান্দেড়াই গ্রামের পঞ্চায়েত পাড়ার ঈমান আলীর তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে ঈশু (৮) ও গোলাম মোস্তফার মেয়ে মোস্তারিনা (৮) সহ বাড়ির পার্শ্বে একসংগে বন্যার পানিতে ভেসে গেলেও মোস্তারিনাকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও ঈশুর মরদেহ মঙ্গলবার পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। একইদিনে দুপুরে উপজেলার ঘুঘুরাতলির পূর্বে খান সাহেব পাড়ার আমিনুল হকের ৪র্থ শ্রেণিতে পড়া ছেলে আরাফাত হোসেন বন্যায় ভেসে গেলে পরদিন সোমবার তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বন্যা ও টানা বর্র্ষণের কারণে শ্রমজীবি মানুষেরা পড়েছে চরম দূর্ভোগে।

বেড়ে গেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও। গত ৯ আগস্ট বুধবার সন্ধ্যা থেকে হাল্কা ও ভারি অবিরাম বর্ষণের ফলে এলাকার মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের লোকজন, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে পড়েছেন মহাবিপাকে। দেখা দিয়েছে গবাদীপশুর খাদ্য সংকট। অবিরাম বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের সকল পুকুর ডুবে গেছে। এতে মৎস্যচাষিদরা চরম ক্ষতির শিকার হয়েছেন। উপজেলা চত্ত্বরসহ সকল এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষজন সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ গোলাম রব্বানী ও পিআইও মশিয়ার রহমান জানান, উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। আনুমানিক ৬০ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে অনেক মানুষজন দালানের তৈরী ঘরের ছাদে অবস্থান নিয়ে ২ দিন যাবত প্রায় না খেয়ে আছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আয়ুবর রহমান শাহ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আহসানুল হক মুকুল , সাংগঠনিক সম্পাদক আজিমদ্দিন গোলাপ, প্রেসক্লাবের সম্পাদক মোরশেদ উল আলমসহ বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান ,ইউপি সদস্য, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতা সাধ্যমত মুড়ি,চিড়া, পাউরুটি, গমের তৈরী রুটি সরবরাহ করেছে। আব্দুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে আওয়ামীলীগ নেতা আবু হোসেন শাহর নেতৃত্বে নোঙ্গার খানা খোলা হয়েছে।

বিদ্যুত বিভাগ জানিয়েছে আগামী ৩/৪ দিন বিদ্যুত লাইন বন্ধ থাকবে। কাঁচা বাড়ির মিটারগুলি পানির তলে থাকায় ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে পড়ায় তারা একথা জানিয়েছে। মানুষজন গরু-ছাগল, মুরগী নিয়ে উঁচু জায়গাগুলোতেসহ রেল ষ্টেশন , উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসায় আশ্রয় নিয়েছে। গত ৪ দিন ধরে চিরিরবন্দরে ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক না থাকায় ফেসবুক চালানো সহ সংবাদ কর্মীরা চরম বেকায়দার সম্মুখীন হয়েছেন। এসংবাদ পাঠানো পর্যন্ত পানি নামতে শুরু করেছে। দিনাজপুর- পার্বতীপুর সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ধ্বসে যাওয়ায় ও এখনও কিছু কিছু স্থানে হাটু সমান পানি থাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য