মাসুদ রান পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ প্রতি বছরই বর্ষার সময় ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলের নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এবার টানা ৩ দিন অনবরত বৃষ্টি আর পাশ্ব মিত্রদেশ ভারত বন্যার শংকায় ২১ টি বাঁধ খুলে দিয়েছে। কুলিক নদীর পানি বিপদসীমার ৩৮ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতি মুহূত্বে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৫/৬ হাজার পরিবার। ভিটেমাটি আর প্রিয় পোষা পশুপাখির মায়া ছেড়ে জীবন বাঁচাতে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয়গ্রহণ করেছে অসংখ্য মানুষ। নিখোঁজদের তালিকাও খুব একটা ছোট নয়।

সবাই যখন বন্যা দেখতে আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বন্যাসেলফি’, ‘মানবতার ডাকে এগিয়ে আসুন’ শীর্ষক স্ট্যাটাস দিতে ব্যস্ত, এরকম সময়ে অনেকেই নিজের কাজকর্ম, হাজারও ব্যস্ততা রেখে বন্যার্তদের উদ্ধারকাজে এবং সাহায্যার্থে এগিয়ে আসছেন।

অনেক সাধারণ মানুষকে দেখা গেছে নিজের জীবন বিপন্ন করে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ডুবতে থাকা প্রাণটিকে রক্ষা করতে। তাদের গল্পগুলো লিখতে গেলে হয়তো একটি উপন্যাস রচনা হয়ে যাবে। মনুষ্যত্বপূর্ণ এসব উপন্যাস হয়তো পরবর্তীতে অনেক মানুষকেও উদ্বুদ্ধ করবে।

একে একে বন্যা দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছে অনেক সেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক সংগঠন। নিজ হাতে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে রানীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী সভাপতি- সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান- অধ্যাপক- সহিদুল হক।

ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অনেকে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন, করছেন। অনেকে নিজেকে প্রস্তুত করছেন বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াবেন বলে। ত্রাণ বিতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে আরও অনেকেই।

এদিকে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও পৌর-মেয়র- আলমগীর সরকার বন্যাদূর্গত পরিবারদের মাঝে চাল-৫কেজি, আটা- ১কেজি, আলু- ১কেজি, মশুর ডাল আধা কেজি, তৈল আধা কেজি করে দিয়েছেন। এবং আর্থিক ভাবেও অনেকে সহযোগিতা করেছেন।
সে সময়ে মেয়র সহ উপস্থিত ছিলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা -মোঃ হবিবর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা- আবু সুফিয়ান, উপজেলা যুবলীগ যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক-মাসুদ রানা পলক, কাউন্সিলর- রুহুল, মাইদুল, পৌর সচিব। যুবলীগ নেতা- এস,কে সোহেল রানা মাসুম, জাহাঙ্গির আলম বাবু, ইবনে মানু সহ যুবলীগ এর বেশকিছু নেতা কর্মী।

পিছিয়ে নেই রানীশংকৈল উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগও মানবতার ডাকে এগিয়ে এসেছেন তারাও বল্লেন উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ এর সাধারণ সম্পাদক- সোহেল রানা, নিজ উদ্দেগে তিনি খিচুরি বানিয়ে বন্যাত¦ মানুষের মাঝে তা বিলিয়েছেন, এমন মহত্বী উদ্দেগ আর ক’জনেই বা নিতে পারেন, সাথে আরও ছিলেন সেচ্ছাসেবকলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক- আরথান সহ ছাত্রলীগ এর বেশকিছু নেতাকর্মীরা।

বৃষ্ঠি পড়া বন্ধ হওয়ায় পানিভাসি মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে অনেক মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে এবং বাড়ী ঘর ভেঙ্গে গেছে। গবাদি পশু হাস মুরগীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গ্রামীণ জনপদের রাস্তা ঘাট ভেঙ্গে চলাচলে দূর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এরকম পরিস্থিতিতে খুব কম মানুষই নিজের জীবন বাজি রেখে এগিয়ে আসতে পারেন কল্যাণকর্মে। তাদের মতো আরও অনেকেই এগিয়ে আসবে, এটাই আশা করছি। মানবতার ডাকে সাড়া দেওয়া এসব মানুষকে জানাই সালাম।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য