দিনাজপুর থেকে জিন্নাত হোসেন ॥ দিনাজপুরের ৮টি উপজেলায় ব্যাপক ও ৫টি উপজেলায় আংশিক বন্যায় কয়েক লাখ মানুষ চরম কষ্টে পড়েছেন। ৪টি উপজেলায় সেনাবাহিনী উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছেন। ৬টি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙ্গেছে। পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ব্যাপক ফসলের ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

দিনাজপুর সদর উপজেলা, বিরল, বোচাগঞ্জ, কাহারোল, বীরগঞ্জ, খানসামা, চিরিরবন্দর ও ফুলবাড়ী উপজেলায় প্রবল বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। তবে ঘোড়াঘাট, হাকিমপুর, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ ও পার্বতীপুর উপজেলার আংশিক এলাকা বন্যার কবলে পড়েছে। ৩ দিনের প্রবল বর্ষন ও ভারতের পাহাড়ী ঢলের পানিতে দিনাজপুরের ৩টি প্রধান নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পুনর্ভবা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে ৩৪ দশমিক ২৫ মিটার, আত্রাই নদীর পানি ৪০ দশমিক ২৪ মিটার এবং ইছামতী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে ২৯ দশমিক ৬০ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার অন্যান্য প্রায় ১০টি শাখা নদীর পানি বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে জমি ও বসতবাড়ী প্লাবিত করেছে। পানির তীব্র স্রোতে দিনাজপুর সদর উপজেলার তুতবাগান মাহুতপাড়া শহর রক্ষা বাঁধের প্রায় ২০০ ফুট নদীতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া সুন্দরা, লালবাগ, রাজারামপুর, উলিপুর, সুখসাগর, গাবুড়াসহ বেশ কিছু এলাকার বাঁধ বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমান জানান, অসংখ্য স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় সেগুলো মেরামতের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে বালুর অভাবে বাঁধ মেরামতের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, রংপুর থেকে বালু আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

রোববার সকাল ১১টায় শহরের বাসটার্মিনাল মির্জাপুর এলাকায় বন্যার অবস্থা দেখতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে মির্জাপুরের আব্দুল জব্বারের ১৪ বছরের শিশু পুত্র নাঈম। দমকল বাহিনী পানিতে পড়ে যাওয়া তার অপর ১ সঙ্গী শিশুকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানান, সেনাবাহিনীর ৮২ সদস্যের ২টি দল সদর, বোচাগঞ্জ, বিরল ও খানসামা উপজেলায় উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছেন। এদের মধ্যে রংপুর সেনা নিবাসের ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের ২২ জন মেজর তৌহিদের নেতৃত্বে এবং দিনাজপুরের শহীদ মাহাবুবুর রহমান সেনা নিবাসের ৬০ জন সদস্য মেজর খালিদের নেতৃত্বে উদ্ধার কাজ করছেন। উদ্ধার কাজে ৪টি স্প্রিড বোর্ড ও ৪টি শক্তিশালী যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮টি উপজেলায় ৬৭ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, আরো ৩০০ মেট্রিক টন চাল ও ৫০ লক্ষ টাকা চেয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে রোববার সকালে জরুরী তারবার্তা পাঠানো হয়েছে।

জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম শনিবার রাত ও রোববার সকালে বন্যা দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নিতে বিভিন্ন এলাকায় যান এবং অনুদান প্রদান করেন। বন্যা দুর্গত মানুষেরা এলাকার প্রাইমারী ও হাই স্কুলসহ উচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। শহরের বড়বন্দরে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের গুদামে পানি প্রবেশ করায় ৮টি জেলার জেএসসি পরীক্ষার খাতা ও ওএমআর বিনষ্ট হয়েছে বলে জানান বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান। বন্যায় ৮টি উপজেলায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হলেও কৃষি বিভাগ সঠিক পরিসংখ্যান জানাতে পারেনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য