দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে টানা বর্ষণ ও উজানের পানিতে পুনর্ভবা এবং আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। দিনাজপুর শহর রক্ষাবাঁধের মাহুতপাড়ায় অংশ অংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে শহর ও আশপাশের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পূর্ণভবা নদীর পানি রোববার ভোররাত হতে বিপদসীমার ৮০ ও আত্রাই নদীর পানি ৮৫ মেন্টিমিটার উপর দিয়ে পবাহিত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে।

এদিকে সড়কে পানি উঠায় দিনাজপুরের সাথে বিরল, বোচাগঞ্জ, কাহারোল ও পীরগঞ্জ উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ এবং রেল লাইনে পানি উঠায় দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। মাহুতপাড়ায় শহর রক্ষাবাঁধ মেরামতে প্রথমে বিজিবি ও পরে রংপুর থেকে ৬৬ ডিভিশনের একটি বিশেষজ্ঞদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঁধ মেরামতে চেষ্টা করছে।

পানির নীচে তলিয়ে গেছে আমন চলতি ধানের চারা ও কয়েক হাজার একর জমির ফসল। পানি উঠায় লোকজন ঘর-বাড়ী ছেড়ে রাস্তার পাশের উঁচুস্থানে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর অফিস ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। এ পর্যন্ত আট পাঁচ পুকুর ও ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। টানা বৃষ্টিতে খেটে খাওয়া ও কর্মজীবী মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন অফিসার মো. সিদ্দিকুজ্জামান জানান, জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ১৯টি নদীর মধ্যে সব ক’টি নদীর পানিই বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনাজপুর শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পুনর্ভবা নদীর পানি শনিবার (১২ আগষ্ট) সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও রোবববার সকাল থেকে ৭০-৭৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, গত ৪৮ ঘন্টায় জেলায় ৪৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৬টা হতে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত এই ২৪ ঘন্টায় ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২দিন পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত স্থায়ী হতে পারে বলে জানান তিনি।

এদিকে জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম রোববার সকালে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি বন্যাদুর্গত মানুষের সাথে কথা বলেন ও তাদের খোঁজখবর নেন।

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানান, বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণ তালিকা তৈরী করা হচ্ছে। তালিকা তৈরীর পর বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এরই মধ্যে বন্যা দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

অপরদিকে জেলার কাহারোল ও বীরগঞ্জ উপজেলার বীরগঞ্জের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় (বীরগঞ্জ-কাহারোল) সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রিতদের শুকনো খাবার প্রদান করেন এবং বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদানের আশ^াস দেন। এসময় কাহারোল উপজেলা চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আসলাম মোল্লাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য