চারদিনের ভারী বর্ষণে নীলফামারী জেলার হাজারো মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে ওই সকল পরিবারে দেখা দিয়েছে মানবিক বিপর্যয়। জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা বিশেষ করে তিস্তা অববাহিকা এলাকায় পানি বন্দির কবলে পরে সরকারি চকুরীজীবি হতে কর্মজীবি দিনমজুর মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এবং অর্ধশতাধিক গ্রামের হাজারো মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে। এদিকে সৈয়দপুর উপজেলার হাজারী দোয়ালীপাড়া, কাশিরাম ইউনিয়নে ডিক্সোমোল্লাপাড়ায় পানি উঠেছে।

সৈয়দপুর পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলার রাবেয়া মিল সোনাপুকুর এলাকায় পানি বন্দি হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ। ওই সকল মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে স্থানীয় স্কুলগুলোতে অবস্থান করছে। এদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারেই নাজুক হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু এলাকায় পানিবাহীত রোগ দেখা দিয়েছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, মাঠ ঘাট, গাছপালা, ফসলি জমি,বসতভিটা, পানিতে থৈ থৈ করছে, কোনটি নদী, কোনটি উঠান তা বোঝা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

টেপা খড়িবাড়ী, খাগা খড়িবাড়ী, পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, গয়াবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন এর ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ী, ঝুনাগাছ চাপানী ১নং ওয়ার্ড এবং দক্ষিন ঝুনাগাছ চাপানী ৪নং ওয়ার্ড হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে মানবতার জীবন যাপন করছে। ইরি বোরো ধান নানা ধরনের ফসলের মাঠ বন্যায় তলিয়ে গিয়ে প্রায় নষ্টের উপক্রম হয়ে গেছে। সেই সাথে অনেক মৎসচাষীদের প্রজেক্ট বন্যায় বিলিন হয়ে গেছে।

মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মোঃ মজিদুল ইসলাম, মন্তাজ উদ্দিন, আজগার আলী, ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোলেমান গণি, জিকরুল ইসলাম, জামেদুল ইসলাম, আজিজুল ইসলাম, আঃ কুদ্দুস, তহিদুল ইসলাম, রশিদুল ইসলাম আব্দুল হাই,মমিনুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, সিদ্দিক মিয়া এ প্রতিবেদককে জানান, ভাই আমরা একে বারে নিঃশ্ব হয়ে পথে নেমে গেলাম। আগামী দিন গুলোতে পরিবার পরিজনকে নিয়ে কি ভাবে চলবো, কি ভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবো, তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। বর্তমানে কি করবো, কোথায় যাবো বুঝাতে পারছিনা।

তাই আপনাদের মাধ্যমে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি আমাদের যেন সাহায্য সহযোগীতা করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য