আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন দেশের অন্যান্য এলাকার ন্যায় গাইবান্ধা-৩ আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা থেমে নেই। সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের সমর্থিত কর্মীবহর নিয়ে নেমে পড়েছেন ভোট প্রার্থনায়। ৩১, গাইবান্ধা-৩ নির্বাচনী আসন পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। পলাশবাড়ী ৯ এবং সাদুল্লাপুরে ১১ ইউনিয়নসহ ২০ ইউনিয়ন নিয়ে নির্বাচনী আসন। এ আসনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা মোট ১’শ ৮০।

রাজনৈতিক হিসাব-নিকেশে আসনটি বরাবই দেশের অন্যান্য আসনের চেয়ে অন্যতম। এ আসনটি’তে অতীতের যে কোন সময়ের তূলনায় এবারে আওয়ামী লীগসহ মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যা অধিক। সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের স্ব-স্ব সমর্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী আসনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্ট ছাড়াও তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ, ছোট-খাঠো বৈঠকসহ ভোটারদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হচ্ছেন। এসময় প্রার্থীরা তাদের অতীত-বর্তমান ব্যক্তি ইমেজ, রাজনৈতিক অর্জন ও দুরদর্শিতা তুলে ধরে ভোট প্রার্থনা করছেন।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ও সংরক্ষিত মহিলা এমপিসহ প্রায় ১৭ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম জোরে-শোরে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের ৪, জাপা ৩, জাসদ ১ ও জামায়াত ১ জনসহ মোট ২৬ জন প্রার্থী তাদের ব্যক্তি ও রাজনৈতিক অর্জন তুলে ধরে এলাকার তৃণমূল পর্যায়ে অব্যাহত জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে দিনের ব্যবধানে ক্রমান্বয়েই এ আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা হয়ে উঠছে সরগরম। প্রার্থীরা তাদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনসহ নির্বাচনী প্রচারণায় লিপ্ত থেকে ভোটারদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে শুধু আলিঙ্গন-কুশল বিনিময়ই সীমাবদ্ধ রেখেছেন।

আর্থিক দান-দক্ষিণা ও সাহায্য সহযোগিতার হাত এখনো তেমন বাড়িয়ে দেয়নি। প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে জেলা-বিভাগ ছাড়াও কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা পর্যায়ে বেশ জোরে-শোরে লবিং শুরু করেছেন। এ আসন থেকে প্রায় ১৭ জন প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। প্রার্থীরা ভোট প্রার্থনা কালে তারা নিশ্চিত নৌকা মাঝি হবেন বলে মত ব্যক্ত করছেন। এ আসনে বর্তমান এমপি ডা. মো. ইউনুস আলী সরকার আবারো মনোনয়ন চাইবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।

নৌকার প্রতি ভরসা রেখে যারা নিজেদের প্রার্থী হিসেবে মাঠ পর্যায়ে কম-বেশি জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা হলেন বর্তমান এমপি ও সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ডা. মো. ইউনুস আলী সরকার, সংরক্ষিত মহিলা এমপি মোছা. উম্মে কুলসুম স্মৃতি, পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দশম আলহাজ্ব একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) মাহামুদুল হক, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক ডাইরেক্টর ডা. শাহ্ মো. ইয়াকুব-উল-আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা, স্থানীয় গ্রীন ফিল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের এমডি আমেরিকা প্রবাসী মো. নুরুন্নবী প্রধান সবুজ, পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু বকর প্রধান, সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ শামিকুল ইসলাম সরকার লিপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গাইবান্ধা জেলা-বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার প্রধান বিপ্লব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ফিরোজ কবির সুমন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাতিজা পীরগঞ্জের বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার সাঈদ রেজা শান্ত, সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়ার খান বিপ্লব, সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী আইনজীবি পরিষদ সদস্য এ্যাড. এম.এ ওয়াহেদ মিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা এ্যাড. নুরুল ইসলাম, মতিয়ার রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এশিয়ান এউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর শিক্ষক প্রফেসর ড. মাহাবুব আলম, নিউরেশন এন্ড অটিজম রিসার্চ সেন্টার (এনএএআরসি)-এ কর্মরত খন্দকার তামান্না শারমিন।

এদিকে জাতীয়তাবাদীদল (বিএনপি) থেকে জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের সাবেক পরিচালক ডা. মইনুল হাসান সাদিক, পলাশবাড়ী থানা বিএনপি’র সভাপতি শাহ আলম সরকার ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা ড. মাসুম মিজান, ২০ দলীয় জোটের শরীক দল জাপা (জাফর) কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক মন্ত্রী এবং এ নির্বাচনী আসনের লাঙ্গল প্রতীকে ৬ বারের এমপি ড. টিআইএম ফজলে রাব্বি চৌধুরী। মহাজোটের শরীক দল জাতীয়পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রিসিডিয়াম সদস্য ও পার্টি চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের রাজনৈতিক উপদেস্টা ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পী, কেন্দ্রীয় নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম সাচ্চা ও এ্যাড. মমতাজ উদ্দিন। জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি অন্যতম নেতা সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী আলহাজ্ব এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদী। অপরদিকে, ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের সূরা সদস্য পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাওছার মো. নজরুল ইসলাম লেবু মনোনয়ন চাইবেন বলে তিনি জানান।

জাতীয়পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষিত একক প্রার্থী ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পী। একই সাথে জাপা চেয়ারম্যানের আস্থাশীল অপর দুই নেতা মনোনয়ন চাইবেন। নিশ্চিত তারা মনোনয়ন বঞ্চিত হবেন। এক্ষেত্রে ওই দুই সম্ভাব্য প্রার্থী করতোয়াকে জানান, আমরা চেয়ারম্যানের আদর্শের প্রতি অগাধ আস্থা নিয়ে বলতে পারি ব্যারিস্টার শিল্পীকে মনোনয়ন দিলে এ আসনটি নিশ্চিত আমাদেরকে হারাতে হবে। আমরা বলবো, শিল্পী নয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ নিজেই যদি এ আসনে অংশগ্রহণ করেন তবে আসনটিতে নিশ্চিত আমরা জয়লাভ করতে পারবো ইনশাআল্লাহ্।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য