আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে ভেসে আসা বানভাসি মানুষের কান্না আর আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে তিস্তা পাড়। ঘর-বাড়ি হারিয়ে পরিবার নিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে তারা।
রোববার সকালে তিস্তার পানি প্রবাহ বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ব্যারাজের ৪৪টি গেটই খুলে দিয়ে পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)লালমনিহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বাঘের চর গ্রামের ঘর-বাড়ি হারিয়ে রহিমা বেগম (৩০) তার শিশু সন্তান মুন্নীকে (৬) নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে তিস্তা নদীর দিকে চেয়ে বিলাপ করছেন, সবেই কাইরা নিলি এহন (এখন) কই থাকুম, তোর কি মায়া দয়া নেই?গত কয়েক বছরের চেয়ে এবার স্মরণকালের ভয়াবহ তিস্তা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে দুই লক্ষাধিক পরিবার। গৃহহারা হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন পাউবো গাইডবাঁধ, হ্যালি প্যাডে। কেউবা সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে কুঁড়ে ঘর করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভারতের উজানের ঢলে ও এক সপ্তাহে প্রবল বৃষ্টির ফলে তিস্তা নদী ফুঁসে উঠেছে।

লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, ঠাংঝাড়া, পাসশেখ সুন্দর, নিজ শেখ সুন্দর, গড্ডিমারী, চর গড্ডিমারী, নিজ গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, ধুবনী, চর সিন্দুনা, হলদীবাড়ী, পাটিকাপাড়াও ডাউয়াবাড়ী, বিছন দই, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ও নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার চর খড়িবাড়ী, টাপুর চর,পূর্ব খড়িবাড়ী এলাকার প্রায় লক্ষাধিক পরিবার গৃহহারা হয়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। লালমনিহাটে ৫ উপজেলায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় দুই লক্ষ পরিবার।লালমনিরহাট জেলা সদরের কুলাঘাটের ধরলার বাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার।

বন্যার্ত পরিবারগুলো ত্রাণের জন্য হাহাকার করছেন। ডিমলা উপজেলার টাপুর চরে গৃহহারা মরিয়ম বেগম (৪০) জানান, পানি জায়গা জমি সব কিছু গেছে। এখন খালি হাত পা ছাড়া কিছুই নাই। পরনের কাপড়সহ সব ভাইসা গেছে। এখন কি যে খামু?হাতীবান্ধা উপজেলার চর নিজ শেখ সুন্দর গ্রামের রানা মিয়া জানান,রোববার ঘরবাড়ি সব ভেঙে গেছে। এখন এই বাঁধের রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছি। কোনো সরকারি সাহায্য পাইনি। শুধু শুকনো চিড়া আর গুড় পেয়েছি।লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পানিবন্দি পরিবারগুলোর খোজঁ খবর নেওয়া হচ্ছে।

ইতোমধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়ে গেছে। আরও ত্রাণের জন্য উচ্চ পার্যায়ে আবেদন করা হয়েছে।লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে কথা বলে বন্যা পরিস্থিতির খোজঁ খবর নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে পানিবন্দি পরিবারগুলোর সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য