আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি : টানা প্রবল বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের লালমনিরহাটে শনিবার (১২ আগষ্ট) সকাল থেকে তিস্তা নদী পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে লালমনিরহাট জেলার ৫ উপজেলার তিস্তা পাড়ের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

তবে ১৪ আগস্ট থেকে পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে কয়েকশ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন চারা নষ্ট হয়েছে বলে জানান কৃষকরা। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্ভাবাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে শনিবার সকাল থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ৬৫) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সেখানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা অববাহিকার ডালিয়ায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ১০৮ মিলিমিটার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইস গেট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি উন্নয়ন বোর্ড দোয়ানী’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে পানি আসায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কারণে তিস্তার তীরবর্তী এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে।

আমরা প্রতি মুহুর্তে বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করছি। তিস্তার পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। আরো কি পরিমাণ পানি আসবে তা ধারনা করা যাচ্ছে না।তিস্তা পাড়ের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন আগের বন্যায় চর এলাকা গুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে গেছে। জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় বন্যায় সব চেয়ে বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে। যে কারণে ওই এলাকায় বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি লোকজনের মাঝে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

ভারত গজল ডোবা ব্যারেজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ঘর বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। প্রচণ্ড গতিতে ময়লা ও ঘোলা পানি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। পানি গতি নিয়ন্ত্রণ করতে তিস্তা ব্যারাজের বেশি ভাগ গেট খুলে দেয়া হয়েছে।

ফলে তিস্তার পানিতে পাটগ্রামে অবস্থিত বহুল আলোচিত বিলুপ্ত ছিটমহল আঙ্গোরপোতা-দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সির্ন্দুনা, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন, কালীগঞ্চ উপজেলার ভোটমারী, শোলমারী, জমিরবাড়ী, বইরাতী, আদিতমারী উপজেলার কুঠিপাড়া, গোবর্দ্ধধন, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছা, রাজপুর, তিস্তা, গোকুন্ড এলাকার চরে ৩০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

হাজার হাজার একর আমন ধানের ক্ষেতসহ অনেক ফসলী ক্ষেত তিস্তার পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে কয়েকশ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বলেন জানান মাছচাষীরা।হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, ইতোমধ্যে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পানিবন্দি পরিবার গুলোর খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে উচ্চ পর্যায়ে প্রেরণ করা হবে। ত্রাণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। পানিবন্দি লোকজনের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিধূরভূষণ রায় জানান, ‘রোপা-আমন যা রোপন করা হয়েছিল তা পানিতে তলিয়ে গেছে। দু’একদিনের মধ্যে পানি না কমলে ব্যাপক ক্ষতি হবার আশংকা রয়েছে। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পানিবন্দি পরিবার গুলো খোজঁখবর নেয়া হচ্ছে। ত্রাণের জন্য উচ্চ পার্যায়ে আবেদন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়ে গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য