মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ ঠাকুরগাঁওয়ের সদর সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ডুবে গেছে জেলা শহর সহ উপজেলার নিচু এলাকাসহ পাড়া-মহল্লা।

ছবিটি আজ শনিবার সকালে তোলা, টানা ৪৮ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। ডুবে গেছে নিচু এলাকাসহ পাড়া-মহল্লার অনেক শাক-সবজির খেত ও সড়ক জনপথ।

ঠাকুরগাঁওয়ে জেলায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের কোনো কার্যালয় নেই। এ কারণে বৃহস্পতিবার রাত থেকে কী পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি শুরু হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে শহরের প্রধান রাস্তায় হাঁটুসমান পানিতে ডুবে যায়। টানা বৃষ্টি চলে গতকাল বিকেলে কিছু সময়ের জন্য থেমে গেলেও আবার রাত থেকে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। যা এখন পর্যন্ত বৃষ্টি চলছে।

টানা বৃষ্টিতে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ডুবে গেছে শহরের নিচু এলাকাসহ পাড়া-মহল্লার অনেক সড়ক। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। ডুবে গেছে নিচু এলাকাসহ পাড়া-মহল্লার অনেক সড়ক ও সবজির খেত ও বাড়ি ঘড় অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছেন তারা।

ঠাকুরগাঁওয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের কোনো কার্যালয় নেই। এ কারণে বৃহস্পতিবার রাত থেকে কী পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা জানা যায়নি।

আজ সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের চৌরাস্তা, নরেশ চৌহান সড়ক, হলপাড়া, ঘোষপাড়া গোয়ালপাড়া, পূর্ব গোয়ালপাড়া, ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, গোবিন্দনগর, কলেজপাড়াসহ শহরের অনেক সড়ক তলিয়ে গেছে। এসব সড়ক দিয়ে বিকেল চারটা পর্যন্ত স্রোত বয়ে যেতে দেখা গেছে। ভারী বৃষ্টির কারণে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা খুব একটা চোখে পড়েনি। এতে শহরমুখী মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। পথচারী ও যানবাহন চলাচল কমে যায়। শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকে।

টানা বৃষ্টিতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের আকচার, পোকাতি, কহরপাড়া,মিলনপুর, সালন্দরের ইয়াকুবপুর, মণ্ডলপাড়া, শিংপাড়া, বড়দ্বেশ্বরী ফাঁড়াবাড়ি, বঠিনাসহ বিভিন্ন গ্রামের নিচু এলাকার সবজির খেত পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক কৃষক বলেন, আমাদের গ্রামসহ আশপাশের এলাকার দেড় শতাধিক চাষির মুলা, ঝিঙে, বেগুন, করলাসহ সবজির খেত পানিতে ডুবে গেছে।

ঠাকুরগাঁও সদর পৌরসভার মেয়র- মির্জা ফয়সল আমিন এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে বলেন , পৌরসভার নালা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। তবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নালাতে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পানিনিষ্কাশনে সাময়িক সমস্যা হচ্ছে। অতিবৃষ্টির কারণেই শহরজুড়ে এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি থেমে গেলে কিছু সময়ের মধ্যে শহরের সব পানি নেমে যাবে। আর কিছু কিছু জায়গার পানি নামতে কিছু সময় লাগতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য