মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) থেকেঃ সৈয়দপুরের জলাবদ্ধতা যেন ভাগ্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলাবদ্ধতার পরিবর্তন ঘটাতে সরকার পর্যাপ্ত অর্থ ঢাললেও একই ধারাবাহিকতায় চলে আসছে অচলাবস্থা। যার ফলে গত ২দিনের বৃষ্টিতেই সৈয়দপুরের পাড়া-মহল্লা ও বাজার তলিয়ে গেছে তিন ফিট পানি নিচে। সরকারের দেয়া অর্থ পকেটস্থ করেছেন নির্মাণ না করাসহ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবেই জলাবদ্ধতা স্থায়ী ভাবে রূপ নিয়েছে ফলে শহরবাসীর মন্তব্য।

জলাবদ্ধতার শিকার হওয়া লোকজন বলছেন, মাত্র ২ বছর আগেই সরকারের নির্দশনায় বিশ্ব ব্যাংক সাড়ে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। বরাদ্দকৃত অর্থে রাস্তা সংস্কার ও দ্রুত পানি নিস্কাশনের জন্য বড় ড্রেন নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ নামমাত্র ২/৩টি রাস্তা সংস্কার করলেও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কোন ড্রেনই নির্মাণ করেনি। এছাড়া শহর থেকে পানি নিস্কাশনে যেসকল ছোট ছোট ড্রেন রয়েছে সেগুলো পরিস্কার করা হয়নি। ড্রেনের ভিতর যুগ যুগ ধরে পলিথিনের স্তুপ জমা হয়েছে। এর ফলে পানি দ্রুত নিস্কাশন হতে না পেরে সামান্য বৃষ্টিতেই পাড়া-মহল্লা ও রাস্তায় থাকছে হাঁটু পানি। শহরবাসী বলছেন, বর্তমান পৌর মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার হলেন সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। এর ফলে বর্তমান সরকারের দেওয়া পর্যাপ্ত অর্থ পেয়েও সরকারের বদনাম করতেই জনসাধারণের জলাবদ্ধতা ভোগান্তির দিকে নজর দিচ্ছেন না। অথচ নির্বাচনে ভোট প্রাপ্তির আশায় শহর উন্নয়নে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি দেন তিনি।

সরেজমিনে শহর ঘুরে দেখা গেছে, গত শুক্রবার ও শনিবার রাতের বৃষ্টিতে শহরের মিস্ত্রিপাড়া, বাঁশবাড়ি, মুন্সিপাড়া, গোলাহাট, নতুন বাবুপাড়া, রসুলপুর, নয়াটোলা, নিয়ামতপুর, পুরাতন বাবুপাড়া ও কৃন্দল এলাকাসহ বাঙ্গালীপুর নিচপাড়া তলিয়ে গেছে তিন ফিট পানির নিচে। নীলফামারী-৪ আসনের সাংসদ শওকত চৌধুরীর বাড়িসহ সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম খোকনের বাড়িও তলিয়ে গেছে ৩ফিট পানির নিচে। শুধুমাত্র পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে আন্তরিকতা না থাকায় জলাবদ্ধতার দুর্ভোগই হচ্ছে পৌর মেয়রের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি।

আগামী সংসদ নির্বাচনের দিকে দৃষ্টি রেখে বর্তমান সরকারকে সঠিক ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলে সৈয়দপুরবাসী মনে করছেন।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ জিয়াউল হক জিয়া এ প্রতিবেদককে জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌর কর্তৃপক্ষ আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। অনেকে ড্রেনে ময়লা ফেলায় মাঝে মধ্যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য