আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: ধান ক্ষেতের চারা গরু-ছাগল খাওয়াাকে কেন্দ্র করে থানায় নারী নির্যাতনের মামলা করে মন্তাজ আলী নামে এক কৃষককে বাড়ি ছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। কৃষক মন্তাজ আলী লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের দুহুলী গ্রামের রোস্তম আলীর ছেলে।পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, কৃষক মন্তাজ আলীর ধান ক্ষেত নষ্ট করত তার প্রতিবেশী অছিমুদ্দিনের ছেলে আসাদুজ্জামানের গরু-ছাগল। এ নিয়ে প্রায় ঝগড়া বিবাদ লাগত ওই দুই পরিবারের মাঝে। এ ঘটনায় তারা প্রতিবেশী হলেও কেউ কারও বাড়িতে যাতায়ত করত না।

হঠাৎ গত ২৬ মে কৃষক মন্তাজ আলী ও তার একমাত্র ছেলে এক সন্তানের জনক জাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন আসাদুজ্জামানের স্ত্রী রিনা আক্তার। মামলাটি আমলে নেয় থানা পুলিশ। এ মামলায় আসামিদের গ্রেফতারে তাড়া করলে এলাকাবাসীর নজরে আসে ঘটনাটি।মামলায় বাদীর অভিযোগ, ১৭ মে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে প্রতিবেশী ফারুক হোসেনের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফিরেন ওই সময় নিজ বাড়ির ভেতরে থাকা ওই কৃষক মন্তাজ আলীর ছেলে জাহেদুল ইসলাম তাকে পিছন দিক থেকে জড়ায়ে ধরে।

এ সময় তার আর্তচিৎকারে স্বাক্ষী তার নয় বছরের মেয়ে, শ্বাশুড়ি ও ভাগিনা এলে জাহেদুল পালিয়ে যায়।স্থানীয়রা জানান, পাশের বাড়িতে বিয়ে চলছিল এবং তখন বিদ্যুৎ না থাকায় বিয়ের বাড়ির লোকজন আসাদুজামানের বাড়ি সংলগ্ন বটতলায় আড্ডা দিচ্ছিল। এমন চিকিৎকার চ্যাচামেচি হলে গ্রামের লোকজন জানত। কিন্তু গ্রামবাসী জানলো মামলা দায়েরের পর জানতে পারেন। বাদির বাড়ির পাশের বাড়ির আশরাফুল ইসলাম ও সিরাজুল হক বলেন, এমন ঘটনা ঘটলে সবার আগে আমাদের জানার কথা। কিন্তু আমরা জানলাম মামলা হওয়ার পর। মুলত কৃষক মন্তাজকে হয়রানি করতে এ মিথ্যা মামলাটি করা হয়েছে দাবি করে তারা উচ্চতর তদন্ত করার আহ্বান জানান।

মামলায় পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে দু’মাস ধরে বাড়ি ছাড়া কৃষক মন্তাজ ও তার ছেলে জাহেদুল। ফলে তাদের জমিগুলো পতিত রয়েছে। তার বাড়িতে রয়েছেন জাহেদুলের আত্ত্বসত্বা স্ত্রী মোমেনা খানম। তিনি বলেন, ধানখেত ছাগল খাওয়া নিয়ে ঝগড়া বাঁধলেই হুমকী দেয়া হত আমাদেরকে বাড়ি ছাড়া করবে। তারা মিথ্য মামলায় তাই করলো। তিনি এ অন্যায়ের সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানান।ঘটনার দিন বিয়ের বাড়িতে থাকা ওই ওয়াডের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ জানান, ঘটনার দিন তো দুরের কথা ৩/৪ দিন পরও কিছু শুনেনি। তবে পুলিশ আসার পর তিনি বিষয়টি জানতে পারি।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, মামলাটি তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন জানান, মামলাটি পুনঃতদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক জানান, ঘটনাটি উচ্চতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।হয়রানিমূলক মামলা কখনই হতে দেয়া হবে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য