চীনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকার জন্যই ওই অর্থ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়েছে। ডোকলাম নিয়ে চীনের সঙ্গে বিবাদের ৮ সপ্তাহ বাদে ওই অর্থ চাওয়া হল।

২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১১৩ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা বাজেট পেশ করা হয়েছিল, যা জিডিপি’র ১.৬২ শতাংশ ছিল। একইসঙ্গে ওই বাজেট ছিল গত বছরের চেয়ে ৬ শতাংশ বেশি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রকাশ, বাজেটের অর্ধেক অংশ তারা পেয়েছেন এবং এরইমধ্যে এক-তৃতীয়াংশ অর্থ তারা খরচ করেছেন। কয়েক সপ্তাহ আগেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সেনাবাহিনীর উপ-প্রধানকে যুদ্ধাস্ত্র কেনার জন্য বলেছিল। সেনাবাহিনীকে যেকোনো সময় কমপক্ষে ১০ দিনের যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকতে হয়।

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে প্রতিরক্ষা সামগ্রী আমদানিতে শুল্ক প্রত্যহার করে নেয়া হয়েছে। এজন্য আগে সেনাবাহিনীকে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হতো।

এদিকে, ডোকলাম নিয়ে চীনের পক্ষ থেকে একনাগাড়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আজ (বুধবার) গণমাধ্যমে প্রকাশ, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত ও পানিসীমা সংক্রান্ত বিষয়ের উপ-নির্দেশক ওয়াং ওয়েনলি বলেছেন, ভারত, চীন ও ভুটানের ত্রিদেশীয় সংযোগস্থলে ডোকলাম অবস্থিত। এই যুক্তিতে ভারত ডোকলামে সেনা পাঠিয়েছে। কিন্তু ত্রিদেশীয় সংযোগস্থল অনেক রয়েছে। একই যুক্তিতে আমরা যদি চীন-ভারত-নেপালের সংযোগস্থল কালাপানি এলাকায় ঢুকে যাই কিংবা ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে থাকা কাশ্মিরে ঢুকে যাই, তা হলে ভারত কি করবে?’

চীনের দাবি, ডোকলামে যে এলাকায় ভারত সেনাবাহিনী পাঠিয়েছে, সেটিকে চীনের এলাকা বলে মেনে নিচ্ছে থিম্পুও। এই মর্মে তারা বার্তাও দিয়েছে।

চীনের সরকারি গণমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’-এর সম্পাদকীয়তে ভারতের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘১৯৬২ সালের পর থেকে আজও ভারত পরিবর্তন হয়নি। জওহরলাল নেহেরুর সময়েও তারা যেমন শিশুসুলভ আচরণ করেছিল, নরেন্দ্র মোদির আমলেও ভারতের সেই একই দশা। সব দেশের সরকারই শক্তিশালী প্রতিবেশির সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে চললেও ১৯৬২ সালের পরে দীর্ঘকাল বাদেও নয়াদিল্লি শিক্ষা নেয়নি।’

‘চীনের হুঁশিয়ারি না শুনলে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠবে’ বলে গ্লোবাল টাইমস পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হুমকি দিয়েছেন। ভারত ভুল পথে চললে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চীন যে কোনো পদক্ষেপ করতে পারে বলেও সেদেশের এক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেউই আর ‘যুদ্ধংদেহী’ মনোভাব নিচ্ছেন না। তাদের মুখ থেকে কঠোর কোনো বার্তাও শোনা যাচ্ছে না। বরং সুর নরম করে সংলাপের মাধ্যমেই অচলাবস্থার নিরসনের ওপর তারা জোর দিচ্ছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য