সংবাদ সম্মেলনঃ দিনাজপুরে যৌতুকলোবী স্বামী জিল্লুর রহমানের নির্যাতন থেকে মুক্তি চেয়ে ও তাঁর আনিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবী জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শহরের বড়বন্দর এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ সিদ্দিকা বানু।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহনাজ সিদ্দিকা বলেন, ১৯৯৯ সালে জেলার বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর আলিম মাদ্রাসার ইবতেদায়ী ক্বারী শিক্ষক জিল্লুর রহমানের সাথে আমার ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।

তিনি বলেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী জিল্লুর রহমান আমার কাছে যৌতুকের দাবী করে আসছিলেন। বিয়ের প্রথম রাতেই হঠাৎ উধাও হয়ে যান। পরে দেখতে পেলাম পাশের এক মহিলা সাথে রাত যাপন করেছেন। আমি আমার স্বামীকে ওই মহিলার সাথে দেখতে পেয়েছি বলে প্রথম রাতেই স্বামীর হাতে মার খেলাম।

বিয়ের ৭ দিন স্বামী জিল্লুর রহমান আমাকে মঙ্গলপুর আলিম মাদ্্রাসায় সহকারী শিক্ষিকা পদে চাকুরী নিয়ে দিবে বলে আমার বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসতে বলে। আমি স্বামীর কথা মত আমার বাবাকে চাকুরীর কথা বললে বাবা একবিঘা জমি বিক্রি করে ২ লক্ষ টাকা এনে আমার স্বামীর হাতে তুলে দিলেন। ওই টাকা পাওয়ার পর হতে সে আমার সাথে না থেকে ওই মহিলার সাথে প্রকাশ্যে বসবাস করেন। আমি তাঁকে ওই মহিলার সাথে দেখে তাকে প্রশ্ন করি “তুমি মাদ্্রাসার শিক্ষক হুজুর হয়ে খারাপ মহিলার সাথে থাকো কেন”? এর সে উত্তরে স্বামী জিল্লুর রহমান বলেন, আমি এভাবেই চলবো তোর মন পোষায় থাক, না হলে রাস্তা মাফ।

সংবাদ সম্মেরনে তিনি আরো বলেন, তাঁর যৌতুকের দাবী মিটাতে আমার বাবা শহরের বড়বন্দরে আমার নামে জমি কিনে বাড়ী করে দেন। তার পরও স্বামীর চরিত্র পরিবর্তন হয়নি। এ নিয়ে এলাকার লোকজনের সহায়তায় বড়বন্দর পুলিশ ফাঁড়িতে তাঁর বিচার হয়। এছাড়া ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিরল জাহাঙ্গীর আলম এবং সাবেক মেয়র সফিকুল হক ছুটু, বর্তমান মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আইয়ুব হোসেন, বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ হোসেন, দিনাজপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ডিডি নজরুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউেিন্ডশনের ডিডি, ২০১৫ সালে বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল খাইরুম, বিরল উপজেলার মঙ্গল আলিম মাদ্রাসাার সভাপতি, শিক্ষক মন্ডলীও তার বিচার করেছেন। কিন্তু তাঁর চরিত্রের কোন পরিবর্তন হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, আমার স্বামী তাঁর সেক্স পাওয়ার বাড়াতে হামদর্দসহ বিভিন্ন হার্বাল কোম্পানীর ঔষধ সেবন করেন। কাটুন ভর্তি ওষুধ কিনে রুটিন লিস্ট করে সেবন করেন। স্টেশন থেকে যৌন বিষয়ক ম্যাগাজিন কিনে বালিশের কাছে রাখেন। আমার স্বামী ১২টি মোবাইল সীম ব্যবহার করেন। হার্বালের ঔষধ সেবন করে নতুন নতুন মহিলাকে নিয়ে রাত কাটায়। আমি বাঁধা দিলে সে আমাকে বলে “তোকে কায় পোছে, ১০-৫ টাকায় কচি কচি মেয়ে পাওয়া যায়।”

আমার একমাত্র ছেলে সন্তান সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। বিয়ে হওয়ার ১৮ বছর পার হয়েছে, অথচ আজ পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে কোনদিন একটা কাপড় পাইনি এমনকি আমার ছেলেকে পর্যন্ত একটি গেঞ্জিও কিনে দেয়নি। ছেলের লেখা-পড়া, ভরন-পোষাণের কোন খরচ দেয় না। তাঁর চাকুরীর বেতনের সব টাকা সেক্সী ঔষধ ও খারাপ মহিলাদের পিছনে খরচ করেন। খারাপ মহিলাদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শাহনাজ বলেন, সব সময় আমার কাছে এসে আমার কাছে টাকা চায়। আমি টাকা না দিলে আমাকে ও আমার ছেলেকে মারধর করে বাসা থেকে চলে যায়। আমাকে মেরে হাত-পা ভেঙ্গে পঙ্গু করে দিয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা চিহ্ন এখনও আছে। আমি একজন মুসলিম পর্দানশীল ও হাজী পরিবারের মেয়ে। সন্তানের দিকে তাকিয়ে এতদিন সব সহ্য করেছি। আশায় আশায় দিন পার করেছিলাম। ছেলে বড় হলে আমার স্বামী ভাল হবে কিন্তু তার কোন পরিবর্তন হচ্ছে না।

সর্ব শেষ গত ২৮-০৫-২১০৭ তারিখে আমাকে মেরে গুরুতর আহত করলে আমি এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হই। সেখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ীতে এসে কোর্টে তাঁর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করি। ওই মামলায় গত ১৩-০৭-২০১৭ তারিখে তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে সে জেলে আছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি যৌতুকলোভী, নারী নির্যাতনকারী ও নারী পিপাষু স্বামী জিল্লুর রহমানের নির্যাতন থেকে মুক্তি ও তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবী জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য