সৈয়দপুরে দুই চোরাকারবারীকে ছিনিয়ে নিতে রেলওয়ে থানায় হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আসামি কালু ওরফে সমশের আলীকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলার এই ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৪ নেতা এবং সাবেক পৌর কাউন্সিলরসহ ১০জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অজ্ঞাত আসামি করা হয় আরও ৪০জনকে। এ হামলায় সৈয়দপুর জিআরপি থানার ওসিসহ ৯ পুলিশ সদস্য আহত হন। অভিযুক্ত অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত কাল্লওরফে সমশের আলীকে গত শুক্রবার রাতে সৈয়দপুর প্রধান ডাকঘর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত কালু সৈয়দপুর শহরের বাঁশবাড়ী কিলখানা রোডের মৃত. আলমগীর হোসেনের ছেলে।

এ মামলায় সে ২নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। গত ১৮ মে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার সহকারি টাউন উপ-পরির্দশক (এটিএসআই) মো. হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে জিআরপি ৪ পুলিশ সদস্যের একটি দল ঢাকা থেকে চিলাহাটীগামী আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ভারতীয় অবৈধ কাপড় উদ্ধার করেন। এ সময় এসব মালামাল বহনের অভিযেগে মো. আলী হীরা (৫২) ও মোছা. ফুলমনি (৫৫) নামের দুইজন চোরাকারবারীকেও আটক করা হয়। পরে আটক মালামালগুলোর জব্দ তালিকা তৈরি করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

এ ঘটনায় লোকজন থানায় চড়াও হয়ে জব্দ মালামাল ও আসামীদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সে সময় হামলাকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জিআরপি থানার ওসি একেএম লুৎফর রহমান ও পুলিশ সদস্য রোজিনা আক্তার, নেহার আক্তার রিয়া, লাবলী বাইন, সুচিত্রা রানী, শওকত আলী, মামনুর রশিদ, আহসান হাবিব, তাজবিরুল ইসলাম আহত হন। ঘটনার রাতেই সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক জোবায়দুর রহমান শাহীন, সৈয়দপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম টিটো ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন গুড্ডুসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪০/৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার সহকারি টাউন উপপরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। জানতে চাইলে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) একেএম লুৎফর রহমান আসামি গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলার অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য