আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের গোবর্দ্ধন ইসমাইল পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তিস্তা নদীর শেষ মহুর্তে তিস্তার গর্ভে চলে গেল।

গত ৩১ জুলাই এখবর প্রকাশে বলা হয়েছে আর মাত্র ৫/৬ ফিট ব্যবধান রয়েছে বিদ্যালয়টি। পুরোদমে পাশে আসছে তিস্তার ভাঁঙ্গন। গত সোমবার ৩১ জুলাই দুপুরের পর ওই ইউনিয়নের কৃষকলীগ সভাপতি মোজাফফর রহমানসহ সরেজমিনে বিদ্যালয় গিয়ে দেখা গেছে এ দৃশ্যটি। শেষ মহুর্তে ৫ দিনের ব্যবধানে তিস্তা নদীর গর্ভে বিলিন হলো সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয় সুত্রে জানাগেছে, ১৯৬৯ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়।সে সময় বিদ্যালয়টি যথারিতি ভাবে ছিল। চলে আসছে নিয়মিত ভাবে স্থানীয় কোমলমতি শিশুদের পাঠদান।

অনেকে এই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা নিয়ে কেউ চাকুরী করছেন আবার কেউ উচ্চ শিক্ষার পথে রয়েছে। কিন্তু তিস্তার কড়াল গ্রাসে প্রতিবছর ভাঁঙ্গতে থাকলেও নেয়া হয়নি আগাম কোন পদক্ষেপ। এবারে পুরোদমে তিস্তার সেই ভাঁঙ্গনে পৌছে গিয়ে বিলিন হয়ে গেল বিদ্যালয়টি। গত ৩১ জুলাই প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছিল আর মাত্র ওই কয়েক ফুট বাকী।

ফলে পুরো বিদ্যালয়টি চলে যেতে বসছে তিস্তার গর্ভে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল জলিল বলেন, গোবর্দ্ধন ইসমাইল পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদী ভাঁঙ্গন এলাকা হলেও শিক্ষার্থী সংখ্যা বর্তমানে ১৯৩ জন। এর পুর্বে দ্ধিগুন ছিল।তিস্তার ভাঁঙ্গনের কড়াল গ্রাসে নদীগর্ভে বিলীনের পথে হওয়ায় দিনদিন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। ঝড়ে পড়া শিশু-কিশোররা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, জায়গার অভাবে বিদ্যালয়টি সড়িয়ে নেয়া যাচ্ছেনা। কেউ জায়গা দিচ্ছেনা। শিক্ষিকা জেসমি আহসান জানান, দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হলে কয়েকদিনের মধ্যে বিদ্যালয়টি তিস্তা নদীতে বিলিন হয়ে যাবে। শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে চরের শিশুরা। শিক্ষক দীন বন্ধু মিত্র বলেন, গতকাল ৩০ জুলাই থেকে তিস্তার পানি একটু বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ভাঁঙ্গন বেশি দেখা দিয়েছে। একই কথা বলছেন, শিক্ষিকা সাজেদা বেগম।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হামিজের সাথে দেখা হলেও তিনি এবিষয়ে কিছুই বলেননি। মহিষখোঁচা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন চৌধূরী তিনি ঢাকায় মিটিংয়ে রয়েছেন। মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয়কে অবগত করা হয়েছে জানিছেলিন। বিদ্যালয়টি সড়িয়ে নেয়ার জন্য জায়গা দেখা হচ্ছে। ইউনিয়ন কৃষকলীগ সভাপতি মোজাফ্ফর রহমান চরাঞ্চালের শিশুরা যাতে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয় সে মতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট দ্রুত বিদ্যালয়টির সুব্যবস্থার দাবীও তুলেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ চাঁন মিয়া জানান, বিষয়টি জানতে পেরেছি।বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখাশুনা করে আসছি। আজ আবারো যাচ্ছি। তিনি আরো বলেছেন, বিদ্যালয়টি সড়িয়ে নিতে অনেক সম্যস্যা রয়েছে। বিগত ২০১৫ সালে টেন্ডারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের টিনশেঠ ঘড়টি করা হয়েছে। টেন্ডার আহবানে বলা আছে , চরাঞ্চল হিসেবে নাটবল্টু সিস্টেম করার কথা। কিন্তু ঠিকাদার তা না করে জয়েন্ট ঝালাই করছে। ফলে ঘড়টি খোলা যাচ্ছেনা। তবে জেনারেটর বসিয়ে জয়েন্ট ঝালাই কেঁটে বিদ্যালয়টি টিন খুলে সরে নেয়া যাবে। এ ছাড়া বিকল্পর কিছু নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিষয়টি জানা আছে। তবে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে জানিয়েছিলেন। শেষ মহুর্তে তা ৪ আগষ্ঠ তিস্তার গর্ভে পৌছে গেল। শুধু বিদ্যালয়টি নয় কয়েকদিন পুর্বে তিস্তার ভাঁঙ্গনে চলে গেছে প্রায় ২০টি বাড়ী। অসহায় পরিবাররা এখন রয়েছে খোলা আকাশের নিচে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য