সংবাদ সম্মেলনঃ ওয়ারেন্টের আসামীকে ধরতে গিয়ে পুলিশ ৯ম শ্রেণির ছাত্রকে বেদম মারপিটসহ বাড়ীর মালামাল তছনছ করার অভিযোগ করেছেন দিনাজপুর শহরের মির্জাপুর বাস টার্মিনাল এলাকার মোঃ দুলাল হোসেন এর স্ত্রী রোকেয়া সিদ্দিকী।

৭ আগষ্ট সোমবার দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত প্রতিবেদনে বলেন, গত ২৯ জুলাই দিবাগত রাতে কোতয়ালী থানার এএসআই মোঃ মন্টু হোসেন এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ফোর্স আমাদের বাসায় অতর্কিতভাবে প্রবেশ করে। তারা কাউকে কিছু না বলে বাসার আসবাবপত্র তছনছ করতে থাকে।

এ ব্যাপারে আমি জিজ্ঞাস করলে এস আই মন্টু হোসেন বলেন আপনাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে। আপনাদের এখন ৫০ হাজার টাকা না দিলে সবাইকে তুলে নিয়ে যাব। আমি ওয়ারেন্ট দেখতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে জনৈক কনস্টাবল আমাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। আমার সামনে আমার স্বামী ও ছেলেকে বেদম মারপিট করে হাতে হাতকড়া লাগিয়ে টেনে হেচড়ে পুলিশের গাড়ীতে তুলে থানায় নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, পরের দিন আমি থানা গিয়ে জানতে পারি আমাদের প্রতিবেশী মনোয়ারা বেগম, স্বামী মতিয়ার রাহমান থানায় আমাদের বিরুদ্ধে মারপিটের অভিযোগ এনে একটি সাধারণ ডায়েরী করেছে যাহার নং-১৮২। অভিযোগের ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন। যার কোন সত্যতা নেই। পুলিশ এদের প্ররোচনায় অভিযোগ তদন্ত না করে আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করেছে। আমরা এ ব্যাপারে কিছুই জানতাম না। যদি জানতাম তাহলে আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে হাজির হতাম।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করে বলেন, মনোয়ারা ও মতিসহ কয়েকজন কুচক্রি মহল সদস্য। তারা ইতিপূর্বে পুলিশ প্রশাসনের কতিপয় সদস্যদের প্রভাবিত করে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করে। পরবর্তীতে মিমাংসার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকা না পেলে এ ধরনের ঘটনা ঘটায়। যে রাতে আমার স্বামী ও ছেলেকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় সে রাতে এ কুচক্রি মহলের কিছু সদস্যরা আমার বাড়ীতে এসে বলে, এ ব্যাপারে বেশী বাড়াবাড়ী কর না তাহলে তোমাদের জানে মারব এবং তোমার ইজ্জত নষ্ট করে দেব। এ ব্যাপারে আমি কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছি।

তিনি কুচক্রি মহলের সদস্যদের এবং এদের দ্বারা প্রভাবিত পুলিশ প্রশাসনের কতিপয় সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তার হস্তপেক্ষপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য