মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) থেকে: সৈয়দপুরে এক হরিজন সম্প্রদায়ের শিশুছাত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ মিলেছে। গত রবিবার রাতে শহরের হাতিখানা মহল্লায় এই ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে পুলিশ ধর্ষনের চেষ্টাকারী ও হরিজন কন্যাকে ওই রাতে থানা নিয়ে গিয়ে সোমবার সকালে ছেড়ে দেয়। শিশুটি শুধুমাত্র হরিজন সম্প্রদায়ের হওয়ায় থানায় মামলা রুজু করা হয়নি বলে হরিজন সম্প্রদায় অভিযোগ করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা যায়, শহরের হাতিখানা মহল্লার হরিজন কলোনীর ক্ষুদিয়া বাঁসফোড় এর ১২ বছরের কন্যা সৈয়দপুর আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। শিশুটি সুন্দরী হওয়ায় একই এলাকার সমেজ উদ্দিনের ছেলে ও বুলু ফার্নিচার ব্যবসায়ীর শ্যালক এক সন্তানের জনক শাহাদতের কুদৃষ্টি পড়ে।

ঘটনার দিনে রাতে ওই ব্যক্তিটির বাড়ি জনশুন্য হওয়ায় শিশু রাখিকে মোবাইলফোনে ডাক দেয় সে। শিশুটি লম্পট ব্যক্তির কুমতলব বুঝতে না পেরে সরল বিশ্বাসে ওই বাড়িতে চলে যায়। অতঃপর শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা চালানো হলে তার চিৎকারে সুইপার সম্প্রদায়ের লোকজন ওই বাড়িতে পৌঁছে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে দুইজনকেই আটক করে থানায় নিয়ে গেলেও মামলা রুজু না করে সোমবার সকালে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।

শিশুটির মা ক্ষুদিয়া বাঁসফোড় জানান, তারা হরিজন সম্প্রদায় হওয়ার কারণে তার কন্যার ধর্ষনের চেষ্টাকারীকে পুলিশ আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু কোন হরিজন সম্প্রদায় যদি মুসলিম সম্প্রদায়ের কন্যাকে ধর্ষনের চেষ্টা চালাতো তাহলে কোনক্রমেই পুলিশ ছাড়তো না বলে জানান তিনি।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, ওই এলাকার কাউন্সিলরকে সালিশের মাধ্যমে সমাধান করতেই তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এনিয়ে হরিজন সম্প্রদায়ের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য