ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার আমগাঁও, জামুন, খানকি ও কুমারপাড়ার শতাধিক পরিবার পাটি (মাদুর) তৈরির উপকরণের অভাবে বেকার হতে চলছে বলে তাদের পরিবার সূত্রে জানাগেছে।

পাটি তৈরির মূল উপকরণ দেশি মথার চাষাবাদ কালক্রমে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় এখন জীবন-জীবিকা নির্বাহের জন্য ভিন্ন উপায় অবলম্বন করে নদী-নালা ও খাল বিলে জন্মানো উদ্ভীদ হগলা পানি মথা নামে একপ্রকার জ¦লজ উদ্ভীদ দিয়ে পাটি তৈরি করে বাজারে বিক্রয় করে পাটি তৈরির কারিগররা জীবন-জীবিকা চালাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে এসকল হগলা পানি মথা এমনিতেই তারা জলাশয় থেকে কেটে নিয়ে আসত। কিন্তু এখন তা হয়না।

এর কারণ হিসেবে জানাগেছে নদী-নালা ও খাল-বিলের জলাশয়ে যেসকল কৃষকের জমিতে এগুলো হয় তারা টাকা ছাড়া তাদের কাটতে দেয়না। তাই এখন হগলা পানি মথা সংগ্রহের জন্য কৃষককে বিঘা প্রতি অগ্রীম চারশত টাকা করে দিতে হয়।

আমগাঁও জামুন গ্রামে হস্তশীল্পের দ্বারা পাটি তৈরির কারিগর আ:হামিদ ও উলফত মিয়া জানায়, পাটি তৈরী করে বাজারে বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করা এটা আমাদের বাপ-দাদার আমলের পেশা। আমরা কোনোমত এ পেশাটাকে ধরে রেখেছি।

কিন্তু বর্তমানে উপকরনের অভাবে ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। উচ্চ মূলে এ সকল উপকরণ ক্রয় করে শ্রম দিয়ে পাটি তৈরী করে বাজারে বিক্রী করতে গেলে নায্য মূল্য পাওয়া যায় না।

বর্তমান বাজারে একটি বড় পাটির ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মাঝাড়ি সাইজের পাটি ৪০ থেকে ৩৫ ও ছোট পাটি ৩০থেকে ২৫ টাকা মূল্যে বিক্রয় করে আমাদের গোচ্ছা খেতে হয়। পরিবার পরিজন নিয়ে সারাবছরই দৈন্ন্যদশার মধ্যে জীবন কাটাতে হয়। সরকারিভাবে কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যমে পাটি তৈরির জন্য মথার চাষাবাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করে কৃষককে উৎসাহ প্রদান করলে আমাদের এই পরিবারগুলো জীবন-জীবিকার পথ খুঁজে পাবে।

এভাবে চলতে থাকলে একসময় গ্রাম বাংলার বাঙালী ঐতিহ্য বিলুপ্ত হয়ে পড়বে। গরীর-দুখী,খেটে খাওয়া শ্রমজীবি মেহনতি মানুষকে গ্রাম-গঞ্জসহ শহর অঞ্চলের তাদের ছিন্ন কুটিরে বিছানা পত্রের অভাবে রাত্রে নিদ্রা ও বিশ্রামের জন্য সীমাহীন দূর্ভোগপোহাতে হবে। এসকল মানুষ, এই ক্ষুদ্রশিল্প ও শিল্পের কারিগরদের বাঁচাতে সরকার যেন উপজেলা পর্যায়ে কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যমে মথা চাষের ব্যবস্থা গ্রহণ করে জন্য তাদের স্বাভাবিকভাবে জীবন-যাত্রা চলার পথ সুগম করার জোর আবেদন জানিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য