হিরোশিমায় বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমা হামলায় ৭২তম বার্ষিকী পালন করেছে জাপান।

রোববার সকাল সোয়া ৮টায় হিরোশিমার গ্রাউন্ড জিরোতে বোমা হামলায় নিহতদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের মধ্যে দিয়ে হিরোশিমা দিবসের স্মরণানুষ্ঠানের সূচনা করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, এরপর স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হিরোশিমার মেয়র কাজুমি মাসুই।

এরপর ৮টা ১৬ মিনিটে বোমা বিস্ফোরণের মূহুর্তটির স্মরণে এক মিনিটের নিরবতা পালন করা হয়।

প্রায় ৮০টি দেশের প্রতিনিধিসহ স্মরণসভাটিতে লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর দশ হাজার সদস্য ছিলেন।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও জনতা বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মানব সভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম শোকের এ দিনটি পালন করেন। এ সময় পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের দাবি জানান তারা।

পারমাণবিক অস্ত্র যেকোন সময় বিশ্বের যেকোন নগরীকে হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পরিণত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

১৯৪৫ সালের ৬ অগাস্ট ‘লিটল বয়’ নামের একটি পারমাণবিক বোমা হিরোশিমায় ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র । বিশ্বের প্রথম এ পারমাণবিক বোমা হামলায় মাত্র একটি বোমায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়, যা বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

তারপর থেকে গত সাত দশক ধরে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকের এ দিনটি পালন করে আসছে জাপানবাসী।

অনুষ্ঠানে দেওয়া স্বাগত বক্তব্যে হিরোশিমার মেয়র কাজুমি মাসুই বলেন, “বিশ্ব এখনো নরকের কবল থেকে মুক্তি পায়নি। রাজনৈতিক খেলায় পারমাণবিক অস্ত্র মহাপরাক্রমশালী হয়েছে, যা ব্যবহারের হুমকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

এইভাবে চলতে পারে না। পরমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধে জাতিসংঘকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে এবং এ বিষয়ে বিশ্বের দেশগুলোকে ঐক্যমত্যে পৌঁছতে হবে।”

হিরোশিমা বিশ্বের সকল প্রান্তে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিভীষিকাময় চিত্র তুলে ধরছে উল্লেখ করে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, “আমরা চাই রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র নিরন্ত্রণে কাজ করুক। তারা যদি এগিয়ে আসে তাহলে অবশ্যই বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা কমে আসবে।”

স্মরণানুষ্ঠানে হিরোশিমার পারমাণবিক বোমায় আহতদের মধ্যে যারা এখনও জীবিত আছেন তারা উপস্থিত ছিলেন। এই আহতরা পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

১৯৪৫ সালের ৯ অগাস্ট হিরোশিমায় বোমা হামলার তিনদিন পর প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে নাগাসাকি শহরে আরেকটি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় যুক্তরাষ্ট্র, এতে আরো প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য