ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ছোট সিঙ্গিয়া গ্রামের আমিরুল (৩৫) একটি অস্বাভাবিক পা নিয়ে জীবন পাড়ি দিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের ছোট সিঙ্গিয়া ভোটপাড়া গ্রামে আমিরুল ইসলাম আজ থেকে প্রায় ৩৫ বছর আগে দিনমজুর আঃ মজিদ এর ঘরে জন্ম নেয়। জন্মের সময় তার দুই পা স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে বাম পা একটু অস্বাভাবিক হওয়া শুরু করে। আমিরুল জানান আমি যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকে আমার বাম পা এভাবে অস্বাভাবিক ভাবে বাড়তে থাকে।

আমার বাবা একজন গরীব হওয়ায় আমার পা’য়ের তেমন চিকিৎসা নিতে পারেনি। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক এবং বালিয়াডাঙ্গী হাসপাতালের ডাক্তারের শরানাপন্ন হলে তাদের চিকিৎসায় কোন অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। এমনকি ডাক্তার জানান এটি জন্মগত সমস্যা তাই এই পা’এর চিকিৎসা করে কোন লাভ হবে না। সেই থেকে জীবনের তাগিদে বেঁচে থাকার জন্য এই অস্বাভাবিক পা নিয়ে দিন মজুরের কাজ করে সংসার পরিচালনা করছি।

তিনি জানান এখন আমি বড় হয়েছি আমার সংসার হয়েছে। আমার একমাত্র কন্যা ৭ম শ্রেণি আর ২ পুত্র প্রাইমারী স্কুলে লেখাপড়া করছে। আমি একজন অশিক্ষিত মানুষ নিজে লেখাপড়া করতে পারিনি তাই এখন আমার স্বপ্ন সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলবো। যেহেতু ডাক্তার বলেছে এটি জন্মগত রোগ ভাল হবে না সেজন্য এই অস্বাভাবিক পা নিয়ে বহু কষ্টে জীবন পরিচালনা করছি।

স্থানীয় চেয়ারম্যান কে অনেক বার আমার পা’এর বিষয়ে বলেছি, তিনি বলেছেন তোমার প্রতিবন্ধী ভাতা করে দেব। আজও কোন ভাতা অথবা সরকারি অনুদান আমি পাইনি। তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস পৃৃথিবীতে কত রোগের না চিকিৎসা হচ্ছে আমার তো সামান্য পা আমার মনে হয় উন্নত চিকিৎসা করলে আমার পা ভাল হয়ে যাবে, আমি অন্য ১০ জন মানুষের মত জীবন যাপন করতে পারতাম। তাই আমি সকল মানুষের কাছে দোয়া চাই যেন আমি আমার এই পা নিয়ে আমার সংসার জীবন পরিচালনা করতে পারি।

আমিরুল ইসলামের নিজস্ব জায়গা জমি কিছুই নেই, আছে মাত্র ৩/৪ শতক জমি যেখানে তিনি তার সংসারের সকলকে নিয়ে জীবন পরিচালনা করছেন।

স্থানীয় চাড়োল ইউ’পি চেয়ারম্যান দিলিপ কুমার চ্যাটার্জি বাবু জানান আমিরুল দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। আমার কাছে এসেছিল আমি প্রতিবন্ধী ভাতা’র কার্ড করে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করেছি সময়মত আমিরুল কে না পাওয়ার কারণে তার প্রতিবন্ধী ভাতা’র কার্ড করা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য