মধ্য শ্রাবণের এই সময়ে যখন পানিতে থৈ থৈ করার কথা মাঠ-ঘাট-প্রান্তর, ঠিক তখন বৃষ্টির দেখা নেই ধানের জেলা দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার এলাকায়। যেন চৈত্রের খরায় পুড়ছে মাঠ! ভরা আমন মৌসুমের এই সময়ে বৃষ্টি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে এ অঞ্চলের চাষিরা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের পূর্ব-দক্ষিনাঞ্চলে বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় দেখা নেই কাঙ্খিত বৃষ্টির।

তবুও চাষিরা বসে নেই, সেচ দিয়ে কষ্ট করে হলেও আমন রোপনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে সেই চেষ্টায় বাঁধ সাজছে বিদ্যুৎ। ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকছে এ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা। বিস্তৃণ আবাদ ভুমি নিয়ে তাই উত্তরের কৃষকরা এখন হা-হতাশ করছে। আর দোয়া করছে-আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে। কিন্তু আশ্চর্য্যজনক হলেও সত্য- যেখানে বৃষ্টি প্রয়োজন সেখানে নেই পর্যাপ্ত বৃষ্টি। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দেখা নেই কাঙ্খিত বৃষ্টির।

কৃষকেরা সেচ দিয়ে জমি চাষের চেষ্টা করলেও বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে তাও করতে পারছেন না। ভরা আমন মৌসুমের এই সময়ে ধান রোপন করতে না পারলে তাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যার্থতায় রূপ নেবে। তাই অনেকটা দিশেহারা কৃষককূল। বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, পিক আওয়ারে যে চাহিদা রয়েছে তার অর্ধেকের কম সরবরাহ হচ্ছে।

অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ ৪ ভাগের ২ ভাগ। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার কারণে ঘন ঘন লোড শেডিং হচ্ছে। কৃষকেরা জানান, আকাশে মেঘ জমলেই ঝড় আসুক আর না আসুক বিদ্যুৎ সঞ্চালন উধাও হলে ফিরে আসে না নির্দিষ্ট সময়ে। বিদ্যুতের এই ভেলকি বাজীর কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে চাষসহ বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকান্ড। ফলে সম্মুখ ক্ষতির শিকার হতে যাচ্ছি আমরা চাষিরা।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন কৃষকরা। কাহারোল কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবার আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৭৫৪ হেক্টর। গতকাল পর্যন্ত ৫০ ভাগ আমন চারা রোপন করা হয়েছে বলে জানান কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ শামীম।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য