আনোয়ার হোসেন আকাশ, রানীশংকৈল থেকেঃ ঠাকুরগায়ের রানীশংকৈল উপজেলার দুটি ইউপির( ৩ নং হোসেনগাও,৪নং লেহেম্বা) সীমানার মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুলিক নদীর উপর নির্মিত ভাঙ্গা ব্রিজটি দীর্ঘ ৩০ বছরেও পূনরায় নির্মাণ না হওয়ায় ৮ গ্রাম বাসির নদী পারাপারের দূর্ভোগ খোচায় নি।

গ্রামবাসির অভিযোগ সমগ্রহ দেশে উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু আমরা ২জন এমপি সেলিনা জাহান লিটা(সংরক্ষিত আসন-৩০১) ঠাকুরগাও-৩ আসনের এমপি ইয়াসিন আলীর নিজ উপজেলার বাসিন্দা হয়েও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। প্রতিবার ভোটের সময় ব্রিজ পুনরায় নির্মানের প্রতিশূতি দিলেও বাস্তবায়ন করে না এমপিরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়,উপজেলার ২টি ইউপির গ্রাম রাউতনগর-বর্ম্মপুর এলাকার মাঝে অবস্থিত কুলিক নদীতে ১৯৮৬ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় সুইচ গেট কাম ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ব্রীজটি নির্মানের বছর না পেরুতেই ভেঙ্গে পড়ে। আর ভেঙ্গে পড়ার পর থেকেই অদ্যবধি প্রর্যন্ত ব্রিজ টি ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে রয়েছে।এতে নদী পারাপারে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কৃষক শিক্ষার্থী ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশা জীবি সাধারণ মানুষদের।

গত ২ আগষ্ট সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,নদীর পশ্চিম পূর্বে সাইডে ব্রিজের ভাঙ্গা অংশ পড়ে রয়েছে। অপরদিকে একটি বাঁেশর সাকো দিয়ে স্কুল শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছে। সাকোটি ঐ এলাকার বাসিন্দা শরিফুলসহ ৩জন মিলে নিজ উদ্যোগে গ্রামবাসির সাথে ১মণ করে ধান নেওয়ার চুক্তিতে বাশেঁর সাকোটি নির্মাণ করেছেন। এবং তারায় এই সাকোটির রক্ষনাবেক্ষন করেন।

রওশনপুর গ্রামের করিম নামে একজন পথচারী বলেন নদীর উপর ব্রিজ না থাকায় ৮গ্রাম বাসির যোগাযোগ কৃষি আবাদ বাজার ঘাট,শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে,কারণ শ্যামাডাঙ্গী, রওশনপুর,বম্মপুর,বসতপুর,বিরাশি,শালবাড়ী.লেহেম্বা,হঠাৎ পাড়ার লোকজনের খুব কাছের বাজার হচ্ছে রাউতনগর বাজার,এছাড়াও রওশনপুর,বসতপুর,বম্মপুরের ছেলে মেয়েরা রাউতনগর প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে তাদেরও যাতায়াতে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় সাঁেকা দিয়ে পারাপারের সময় অসাবধানতায় পানিতেও পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

দুলালসহ আরো কয়েকজন জানান, গ্রামগুলোর কোন জরুরী রোগীকেও হাসপাতালে আনতে প্রায় ১৫ কিঃমিঃ ঘুরিয়ে নিতে হয়। অথচ এখানে ব্রীজ থাকলে মাত্র ৭কিঃমিঃ রাস্তা অনেক সহজে এবং তারাতারি নিয়ে যাওয়া যায়,এছাড়াও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে কৃষকরাও তাদের আবাদকৃত ফসল ঠিকমত বাজারে বাজারজাত করতে পারছে না।

বসতপুর গ্রামের কাজিম বলেন,প্রতিবার ভোটের সময় এমপিরা ব্রীজ নির্মানের প্রতিশুতি দিলেও ভোট শেষে তারা ভুলে যায় র্দীঘ ৩০ বছরে কত এমপি হলো অথচ আমাদের ব্রিজ হলো না। এবার আমাদের উপজেলার ২ জন বাসিন্দা ওয়ার্কাস পার্টির জেলা সভাপতি ঠাকুরগাও-৩ আসনের ইয়াসিন আলী ও আ’লীগের মহিলা সংক্ষিত ৩০১ আসনের সেলিনা জাহান লিটা এমপি হয়েছেন আমরা আশার আলো দেখেছিলাম এবার বুঝি ব্রিজটি পুনরায় নির্মানের ব্যবস্থা করা হবে কিন্তু এমপিদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে তবুও এ ব্রিজ নির্মানের দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ দেখছি না। তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্রিজ নির্মান না হওয়ায়।

কথা হয় প্রাথমিক স্কুলে পড়ুয়া ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইশমত আরার সাথে তার বাড়ী বর্ম্মপুরে প্রতিদিন নদী পার হয়ে রাউতনগর স্কুলে আসেন,সে বলে আমার স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয় যেমন,বর্ষার সময় সাকোঁ দিয়ে ভয়ে পারাপার হই। আর পানি কমে গেলে নদীর পানি ডিঙ্গিয়ে যেতে হয়। নদীর পানি ডিঙ্গিয়ে যাওয়ার অনেক সময় পায়ে বিভিন্ন রকম অসুখের সমুক্ষিন হয়েছি। সে আরো বলে আমি প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন জানাচ্ছি আমাদের ¯কুল যাওয়ার ব্রিজটি নির্মান করে দিন।

ব্রিজ পুনরায় নির্মাণ হওয়া প্রসঙ্গে ঠাকুরগাও-৩ আসনের এমপি ইয়াসিন আলী বলেন,আমি চেষ্টার কোন ত্রুটি করিনি,সংসদে উপস্থাপন করেছি,সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ডিউ লেটার দিয়েছি তারপরও ব্রিজটি নির্মানের বরাদ্দ পাচ্ছি না। তিনি সাংবাদিকদের ব্রিজটি নিয়ে লেখালিখি করার আহবান জানান।

অন্যদিকে সংরক্ষিত ৩০১ আসনের এমপি সেলিনা জাহান লিটার সাথে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করেছি খুব শ্রীঘই ব্রিজটি নির্মান করা হবে বলে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য