মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন স্থানে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট কোন পাইকারি বাজার নেই। উৎপাদিত পণ্য কৃষক সরাসরি বিক্রির জন্য জেলায় ৬টি কৃষি বাজার (গ্রোয়ার্স মার্কেট) নির্মান করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকেই পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে এই ৬টি কৃষি বাজার।

ঠাকুরগাঁও জেলার ৮০ ভাগ মানুষই সরাসরি কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। এ জেলায় প্রায় সকল ফসলই কম-বেশি উৎপাদিত হয়। জেলায় যে পরিমান কৃষি পণ্য উৎপাদিত হয় কৃষক সে পরিমান উৎপাদিত মূল্য পায় না।

সেই লক্ষ্যে ২০০৭ সালে এনসিডিপির আওতায় প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলায় ৬টি কৃষি বাজার নির্মান করে জেলা মাকেটিং অধিদপ্তর। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকে জেলায় কৃষি বাজার গুলো অবহেলা ও অযত্নে পড়ে রয়েছে।

অনেক কৃষক বলেছেন, এই সব কৃষি বাজার বর্তমানে ধংস্বের পথে। উদ্বোধনের পর থেকে এই সব মার্কেট আর চালু হয় নাই আর সরকার চালুর বিষয়ে কোন পদক্ষেপও নেয় নাই। এছাড়াও মার্কেটগুলো যে স্থানে করা হয়েছে তার আশে পাশে অনেক মার্কেট গড়ে ওঠার কারনে এখন কৃষি বাজার (গ্রোয়ার্স মার্কেট) গুলো কেও আর ব্যবহার করছে না। এখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি উদ্দ্যেগ গ্রহন করা হয় তাহলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সব মার্কেট রক্ষা করা সম্ভব।

এই বাজারের মূল লক্ষ্য ছিল যে, কৃষক কম দামে যে পণ্য বিক্রি করবে তার সুফল যেন ভোক্তারা পায়। কিন্তু মাঠ থেকে আড়ৎ পর্যন্ত কয়েক স্তরে হাত বদল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাচ্ছে পণ্যের দাম। সেই মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়াদের বেধে দেয়া দামেই ক্রেতাদের তা কিনতে হয়। তাই কৃষক ও ভোক্তা যেন সহজেই কৃষি পণ্য কিনতে বা বিক্রি করতে পারে সেটাই মূল লক্ষ্য।

রাজধানী ও দেশের বড় বড় শহরের পাইকারি বাজারগুলোতে কোল্ডস্টোরেজের ব্যবস্থা করা গেলে কৃষকরা সময় নিয়ে তাদের পণ্য সঠিক দামে বিক্রি করতে পারবে। সেক্ষেত্রে বাজারে আড়ৎদাররা তাদের পণ্যের মান নিয়ে কমমূল্যে কেনার সুযোগ পাবে না। ক্রেতারাও পাবে তরতাজা শাক-সবজি।

জেলায় অনেকে অভিমত দিয়েছেন যে এই সকল কৃষি বাজার যদি পুনরায় চালু করা যায়। একদিকে যেমন কৃষক তার পন্য ভাল দাম ও সংরক্ষন করতে পারবে অপরদিকে ভোক্তা তার গুনগত পণ্য ক্রয় করতে পারবে।

তাই প্রয়োজনীয় সংখ্যক খাদ্য গুদাম ও হিমাগার তৈরি করে ধান-চাল, গম-ভুট্টা, শস্যাদিসহ তরিতরকারি, ফলফলাদি, শাকসবজি ইত্যাদি সংরক্ষণ করা হলে এ সংরক্ষণের দ্বারা একদিকে যেমন দেশের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে; আর পাশাপাশি তা বিদেশে রফতানি করে লাখ লাখ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

জেলা মার্কেটিং অফিসার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০০১ সালে এনসিডিপি প্রজেক্ট এর মাধ্যমে এই মার্কেটগুলো তৈরি করা হয়। কিন্তু এই প্রজেক্ট ২০০৮ সালে শেষ হওয়ার পর থেকে মার্কেটগুলো আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যায়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অনেকবার এই মার্কেটগুলো চালুর ব্যবস্থা গ্রহন করা হলেও আর চালু করা সম্ভব হয় নাই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য