সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করে পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্টের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনার জন্য (রিভিউ) আবেদনের সিদ্ধান্ত অনেকটাই চূড়ান্ত করেছে তার পরিবার। নওয়াজের এক পারিবারিক আইনজীবীর বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন খবরটি নিশ্চিত করেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে খাজা হারিস এ আবেদন করবেন বলে জানা গেছে।

ওই আইনজীবী জানান, নওয়াজকে অযোগ্য ঘোষণা এবং তিনি ও তার সন্তানদের বিরুদ্ধে রেফারেন্স দায়ের করতে এনএবিকে নির্দেশনা দিয়ে সুপ্রিমকোর্ট যে রায় প্রদান করেছেন তার বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করার সিদ্ধান্ত অনেকটা চূড়ান্ত। সুপ্রিমকোর্টের ১৯৮০ সালের বিধি অনুযায়ী রায়ের মূল কপি হাতে পাওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করা যায়। নওয়াজের আইনজীবীরা বিশ্বাস করেন, সংবিধানের ৬২(১)(এফ) অনুচ্ছেদের আওতায় তাদের মক্কেলকে অযোগ্য ঘোষণা করা অযৌক্তিক।

২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং রাঘববোয়ালদের আর্থিক কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস করে সাড়া ফেলে আলোচিত ‘পানামা পেপারস’। ফাঁস হওয়া ওই গোপন নথিতে অর্থ পাচারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছেলের নাম উঠে আসায় নিজ দেশে চাপের মুখে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতে গড়ায়। বিরোধী দলগুলো থেকে তার পদত্যাগ দাবি করা হয়। ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর নওয়াজ শরিফ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশে অবৈধ বিনিয়োগের অভিযোগ তদন্তে একটি কমিশন গঠন করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বহুল আলোচিত পানামা পেপারস ফাঁসের পর বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই), জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত দেয় আদালত।

গত এপ্রিলে বিরোধী দলগুলোর এ সংক্রান্ত মামলায় বিভক্ত রায় দেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। পাঁচ সদস্যের বিচারক প্যানেলের মধ্যে তিনজন নওয়াজের পক্ষে এবং দুজন তার বিরুদ্ধে রায় দেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারক পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির অভিযোগ থেকে সাময়িক নিষ্কৃতি পেয়ে যান নওয়াজ। পাঁচ বিচারপতি আসিফ সায়্যিদ খোসা, গুলজার আহমেদ, এজাজ আফজাল খান, আজমত সায়্যিদ ও ইজাজুল আহসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। তাঁদের মধ্যে বিচারপতি খোসা ও গুলজার নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। বাকি তিন বিচারপতি যৌথ তদন্ত দল গঠনের পক্ষে রায় দেন। আর সেই দলের তদন্তের পর গত ২৮ জুলাই নতুন রায় ঘোষিত হয় নওয়াজের বিরুদ্ধে। তাকে প্রধানমন্ত্রিত্বের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য