বিরল ডিগ্রী কলেজে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নিকট কোচিং ফি আদায় করা হলেও শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। পাসের হার শতকরা ৪৮.৮৯ ভাগ। পরীক্ষার ফলাফল পেয়ে অভিভাবকরা বিস্মিত। পরীক্ষার আগে বিশেষ ক্লাশ কার্যক্রম এবং মডেল টেস্ট পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সহযোগিতা চেয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু হাসান পত্র প্রদান করেন। অভিভাবকরা সে মোতাবেক অর্থ কলেজে প্রদান করে। পত্রে মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলে কিংবা ফলাফল খারাপ করলে বোর্ড প্রদত্ত ‘প্রবেশ পত্র’ প্রদান সংক্রান্ত জটিলতা হতে পারে মর্মে হুমকি দেয়া হলে অভিভাবকরা নিরুপায় হয়ে পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ফি প্রদানে বাধ্য হয়।

কলেজ কর্তৃপক্ষ কোচিং এর নামে টাকা আদায় করলেও কাঙ্খিত ফলাফল প্রদানে ব্যর্থ হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিস্মিত ও হতাশ অভিভাকরা জানান, কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয় ও ব্যর্থতার দায় নিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু হাসানের পদত্যাগ অত্যন্ত জরুরী। কেননা তিনি বিশেষ ক্লাশ (কোচিং) এর নামে অর্থ আদায় করে তা পরীক্ষার্থীদের ভালোর জন্য নয়, নিজে অর্থ আত্মসাতের লক্ষ্যে বহিরাগত (সেতাবগঞ্জ কলেজের ইংরেজি প্রভাষক মুরাদ হোসেন) শিক্ষক দিয়ে দায়সারার অপচেষ্টা করেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ফাতেমা আক্তার নামের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীর নিকট মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কাগজপত্র ফেরৎ প্রদানের ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু হাসান এর বিরুদ্ধে সংবাদ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়। সচেতন অভিভাবকরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু হাসানের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি।

কলেজ সুত্রে জানা গেছে, এবার এইচএসসি পরীক্ষায় ২২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১০ জন কৃতকার্য হয়েছে। যার পাশের হার শতকরা ৪৮.৮৯ ভাগ। উপজেলায় এবার ফলাফলে জানা গেছে, ধুকুরঝাড়ী কলেজ শতকরা ৬২.৫৮ ভাগ, বিরল মহিলা ডিগ্রী কলেজ পাসের হার শতকরা ৬২.২০ ভাগ, বিজোড়া স্কুল এন্ড কলেজ শতকরা ৬১.১১ ভাগ, বোর্ডহাট মহাবিদ্যালয় শতকরা ৫৭.৮৯ ভাগ, মাঈনুল হাসান ডিগ্রী কলেজ শতকরা ৫৫.৮৫ ভাগ, জগতপুর কলেজ শতকরা ৫১.৬১ ভাগ, কাঞ্চন নিউ মডেল কলেজ শতকরা ৪৫.৫৩ ভাগ ও ফরক্কাবাদ এন আই স্কুল এন্ড কলেজ শতকরা ৪৪.৪৪ ভাগ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য