পিডিবি’র স্কাডা ও সৈয়দপুর গ্রীড হতে বিদুতের অসম বন্ঠনের কারনে জেলার ডোমার, ডিমলা ও পার্শ^বর্তী পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার বিদুৎ গ্রাহকেরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। স্কাডা, সৈয়দপুর গ্রীড ও নীলফামারী সাব-ষ্টেশনের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে পিডিবি’র ডোমার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তিন উপজেলার ২২ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক। যেন বিষয়টি দেখার কেউ নেই। বিভিন্ন অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগ নিয়ে নানা তথ্যে জানা যায়, স্কাডা শুধু নীলফামারীর ৩৩ কেভি লাইনটি বন্ধ করে দেয়। সৈয়দপুর উপজেলা ও পল্লী বিদুতের পিবিএস-১ (নীলফামারী) ও পিবিএস-২ (রংপুর) লাইন কখনো স্কাডা বন্ধ করে না।

নীলফামারী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে চাহিদা ও বরাদ্দ অনুযায়ী কখনোই সুষম বন্ঠন করা হয় না। নীলফামারী সাব-ষ্টেশনের সাহায্যে ডোমারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় বরাদ্দ নীলফামারী অফিস নিয়ন্ত্রন করে এবং নীলফামারীর চাহিদা পুরন করে অবশিষ্ট বিদ্যুৎ ডোমার অফিসে সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া গ্রীড হতে সরবরাহ স্বাভাবিক দেয়ার পরেও কোন প্রকার আগাম নোটিশ ছাড়াই সংস্কারের নামে, ব্রেকার পড়ে যাওয়া বা কোন অজুহাত ছাড়াই নিয়মিতই নীলফামারী সাব-ষ্টেশন ঘন্টার পর ঘন্টা ডোমার-নীলফামারী সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন করে রেখে দেন। এর ফলে ডোমার কার্যালয় গ্রীডের বাইরে আর এক নুতন মাতব্বরের কবলে পরে সামান্য প্রাপ্তি দিয়েই কোন মতে চলছে।

পিডিবি গ্রাহকদের পিডিবিকে নিয়ে নেতিবাচক ধারনা দেয়া ও গ্রাহকদের ক্ষেপিয়ে তোলার উদ্দেশ্য নিয়ে একটি বিশেষ মহলের ইন্ধনে এ কাজটি করা হয় বলে অভিযোগে প্রকাশ। নীলফামারী সাব-ষ্টেশনকে ডোমার অফিসের নিয়ন্ত্রক না রেখে গ্রীড হতে সরাসরি নীলফামারী ও ডোমার অফিসে সরবরাহ করা হলে ভোগান্তি কমবে গ্রাহকদের এবং বাড়বে সেবার মান। অপরদিকে সৈয়দপুর উপজেলায় গ্রীড থাকার কারনে জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় কখনো লোড শেডিং দেয়া হয় না। অথচ জেলা শহর ও অপরাপর উপজেলাগুলোতে চলে ঘন্টার পর ঘন্টা লোড শেডিং। নুতন সরকারী বিধি অনুযায়ী দিনের বেলায় পল্লী বিদ্যুৎ ৪৯% ও পিডিবি ৫১% বিদ্যুৎ পেয়ে থাকে।

অপরদিকে সন্ধ্যা ৫ টা হতে রাত ১১ টা পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুৎ ৬৮% ও পিডিবি ৩২% বিদ্যুৎ পেয়ে থাকে। পিডিবি’র অধিকাংশ গ্রাহক শহর কেন্দ্রিক হওয়ায় বিকাল হতেই শুরু হয় বিদুতের লোডশেডিং, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, ক্ষতি হচ্ছে ব্যাবসা বানিজ্য ও চিকিৎসা খাতের, উৎপাদন বিঘিœত হচ্ছে নানান ধরনের শিল্প কারখানায়, বাড়ছে উৎপাদন মুল্য, কমছে অর্থনীতির সুচক। বিদুতের এ অসম বন্ঠনের কারনে পিডিবি গ্রাহকেরা কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় তাদের মাঝে পিডিবিকে নিয়ে ক্রমেই ক্ষোভ দানা বাধছে। পিডিবিকে নিয়ে বিশেষ মহলের অসদ উদ্দেশ্যর কারনে অসম বন্ঠন ও স্কাডা’র দোহাই দিয়ে পিডিবি গ্রাহকদের ক্ষেপিয়ে তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, জেলায় পিডিবি’র বিদ্যুৎ বিতরনে তিনটি নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় রয়েছেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী গ্রাহক রয়েছে ডোমার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের অধীনে। এ কার্যালয়ের অধীনে রয়েছে ২২ হাজার গ্রাহক, প্রায় ৩ হাজার সেচ পাম্ম, ৩৫০ টিরও বেশী ক্ষুদ্র শিল্প, দুটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কৃষি বিভাগের একটি বীজ প্রজনন কেন্দ্র ও বিএডিসি’র একটি আলু উৎপাদন খামার, এ প্রতিষ্ঠান দুটির রয়েছে একাধিক হিমাগার যা অতীব গুরত্বপুর্ন। এ অফিস হতে বিভিন্ন ক্ষমতার ১৬৫ টি ট্রান্সফরমারের সাহায্য প্রায় ২০০ কিলোমিটার সরবরাহ লাইনের সাহায্যে গ্রাহক সেবা দিয়ে আসছেন।

এ অফিসে প্রতিদিন চাহিদা রয়েছে ৯ মেগাওয়াট। তাদের বরাদ্দ দেয়া হয় মাত্র ৪ মেগাওয়াট। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এর ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা চলে লোড শেডিং। চাহিদা মাফিক বিদুৎ না পাওয়ায় গ্রাহকেরা অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে সৈয়দপুর গ্রীডের সহকারী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম সৈয়দপুর স্কাডা’র আওতার বাইরে ও নীলফামারী সাব-ষ্টেশন ডোমার অফিসের উপর খবরদারির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, সৈয়দপুরে একাধিক ভিআইপি ফিডার থাকার কারনে তুলনামূলক লোডশেডিং কম করা হয়। এ ছাড়া নীলফামারী ও ডোমার অফিস অচিরেই আলাদা ফিডার হয়ে যাবে ফলে লোড শেডিং কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য