কুড়িগ্রামের উলিপুরে আবাদি জমির উপর ইটভাটা তৈরির করায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে। আজ বুধবার সকাল ১১ টায় উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ উমানন্দ আখাইপাড় গ্রামে ইট ভাটার নির্ধারিত স্থানে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে ১০টি ভাটা তৈরি করায় পরিবেশ মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে যত্রতত্র ইটভাটা তৈরির ছাড়পত্র দেয়ায় একদিকে কমে যাচ্ছে আবাদি জমি, অপরদিকে এসব ভাটা সংলগ্ন বাসিন্ধারা পড়েছে স্বাস্থ্য ঝুকিতে।

জানা গেছে, উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের ঐ গ্রামে আবাদি ও বসতবাড়ি সংলগ্ন জমির উপর চিলমারী উপজেলার থানারহাট বাজারের মৃত আকবর আলীর পুত্র আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান ইট ভাটা স্থাপনের জন্য স্থানীয় কিছু ক্ষুদ্র জমির মালিকদের প্রলোভন দেখিয়ে দুই মৌসূমের ফসল দেয়ার কথা বলে ভাড়া নেন। স্থানীয় কৃষকরা এর প্রতিবাদ করলে তিনি তার লোকজন দিয়ে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন এবং কৃষি জমি ভাড়া নেয়ার অজুহাতে জমি গুলো নিজ দখলে নিয়ে বসতবাড়ীর পার্শ্বে ভাটা স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেন। ইট ভাটাটি উল্লেখিত স্থানে স্থাপন করা হলে একদিকে যেমন কৃষিজমি অনাবাদি হবে অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পড়বে।

এছাড়া কৃষি জমির ফসলহানী ও চর্তুদিকে বসবাস করা শত শত মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এর প্রতিকুল প্রভাব থেকে নিরাপদ খাকতে গত ২১ জুন ভাটা স্থাপন বন্ধের জন্য এলাকাবাসী একটি অভিযোগ পত্র সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরন করে। যার তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এমতাবস্থায় আপত্তি সত্বেও আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান ঐ স্থানেই ভাটা নির্মানের জন্য ইট নিয়ে আসলে এলাকাবাসি বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।

সরেজমিন ঐ ইউনিয়নের গিয়ে দেখা গেছে, নিরাশির পাতাড় এলাকায় ৫টি, বামনেরহাট এলাকায় ৩টি ইতোমধ্যে নির্মান করা হয়েছে এবং ঐ গ্রামে দু’টি ভাটা নির্মানের উদ্যোগ নেয়ায় ইউনিয়নের পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এর আগে ঐ এলাকার প্রায় ১০ একর জমির ফসল পুড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। মের্সাস ‘এইচ,আর,বি,ব্রিক্স’ এর মালিক আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান বলেন, ভাটা নির্মানের জন্য আবেদন করেছি, প্রশাসন অনুমতি দিলে ভাটা করব, না হলে করব না।

ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াদুদ হোসেন মুকুল বলেন, এ গ্রামে ভাটা নির্মাণ করা হলে পরিবেশ মারাত্মক ঝুকির মধ্যে পড়বে। তবকপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মাসুদ রানা সরকার বলেন,পাশেই বসতবাড়ি আছে, জমিগুলো দো’ফসলি। তদন্ত প্রতিবেদন দেব, ভাটা নির্মাণের অনুমতির দেয়ার বিষয়টি প্রশাসনের। উপজেলা কৃষি অফিসার অশোক কুমার রায় বলেন, আমি সরেজমিন সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেব।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য