হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছর পর নীলফামারীর ডোমার উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে সিজার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২ টায় স্ত্রীরোগ ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ওবায়দা নাজনীন মুক্তা উপজেলার হরিণচড়া গ্রামের মশিউর রহমানের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগমের সিজার করে এ কার্যক্রম শুরু করে। সিজারে ওই প্রসুতির একটি পুত্র সন্তান প্রসব হয়। বর্তমানে নবজাতক ও মা দুজনেই সুস্থ রয়েছে। এখন থেকে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে সিজার হবে এখবরে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করে।

উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স সুত্রে জানা গেছে, ১৯৬২ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তিতে ২০০৭ সালে তা ৫০ শয্যায় উন্নিত হয়। হাসপাতালটির প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বিভিন্ন সমস্যার কারনে সিজার কাযক্রম চালু করা সম্ভব হয় নাই। এখন সোমও মঙ্গলবার সপ্তাহে দুই দিন অফিস চলাকালীন সময় পর্যন্ত সিজার কাযক্রম চালু থাকবে।

মেডিকেল অফিসার ডা. ওবায়দা নাজনীন মুক্তা বলেন, সিজার করার সময় আমি নার্সদের দক্ষতার অভাব অনুভব করি। যারা বর্তমানে এখানে কর্মরত আছেন তারা এ কাজে অনভিজ্ঞ। তাই বর্তমানে সপ্তাহে দুই দিন আমি সিজার করবো।

উপজেলা স্বাস্থ প: প: কর্মকর্তা ডা. মো: মিনহাজ উদ্দিন মিয়া জানান, আমরা বেশ কিছু দিন হতে আমাদের এখানে সিজার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি চালাচ্ছি। তবে আজ তা শুরু করতে পেয়েছি। আপাতত সোম ও মঙ্গলবার সপ্তাহে দুই দিন অফিস চলাকালীন সময় পর্যন্ত সিজার কাযক্রম চালুর সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। হাসপাতালে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠলে সপ্তাহে সাত দিনেই এ কার্যক্রম চালু করা হবে।

হাসপাতালটিতে সিজার কার্যক্রম না থাকার সুযোগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র গড়ে উঠে অনুমোদনহীন বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। ওইসব প্রতিষ্ঠানে নেই কোন অভিজ্ঞ ডাক্তার, অ্যানেসথেসিয়া, সহকারী ডাক্তার ও দক্ষ নার্স। কোন রকমে সিজার করে এ অঞ্চলের গরিব মানুষদের পকেট কাটছে অনুমোদনহীন ব্যাঙের ছাড়ারমতো গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে সিজার শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ডোমারবাসী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য