দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার সবচেয়ে বড় হাট ও গ্রামীণ শহর পাকেরহাটে প্রধান সড়ক দখল করে পাটের হাট লাগায় চলাচলে রোগী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের মারাত্বক সমস্যার মুখোমুখী হতে হচ্ছে। প্রত্যেক সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (পাকেরহাট) খানসামার গেট হতে পাকেরহাট ডিগ্রী কলেজের গেট পর্যন্ত পাট হাটের জন্য কোন পথচারী ও যানবাহন চলাচল করতে পারে না। জমির উদ্দিন শাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, পাকেরহাট ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা, আকবর আলী শাহ উচ্চ বিদ্যালয় ও পাকেরহাট ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী কেউ প্রধান সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারে না বলে জানিয়েছেন উক্ত প্রতিষ্ঠান গুলোর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

পহেলা আগস্ট মঙ্গলবার সকাল ৮ টায় সরেজমিনে গেলে দেখা যায় পাকেরহাট থেকে খানসামা ও চৌরঙ্গী বাজার যাওয়ার পথচারী, যানবাহন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী পাকেরহাট হাসপাতাল গেটের সামনে দিয়ে বড় মাঠ হয়ে পাকেরহাট ডিগ্রী কলেজের গেটের রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। ডিগ্রী কলেজের গেটের দিকে যেয়ে দেখা যায় অটো ভ্যানে করে ভেড়ভেড়ী গ্রামের একজন রোগী ও রোগীর লোকজন হাসপাতালে আসার জন্য অপেক্ষায় আছে। তাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু সম্পূর্ণ রাস্তাজুড়ে পাট হাট লাগায় এখন কোন দিক দিয়ে হাসপাতালে যাব তা নিয়ে ভাবছি। শেষে অনেক অটোভ্যানে ধাক্কাধাক্কি করে বড় মাঠের মাঝ দিয়ে নিয়ে এসে হাসপাতালে যাবে কিন্তু সেই রাস্তা এর মধ্যে পাট ব্যবসায়ীদের পাটের স্তুপ দিয়ে রাস্তা বন্ধ।

এরপর আবার ঘুরে যেয়ে কারিগরি কলেজ সড়ক দিয়ে জমিরউদ্দীন শাহ বালিকা স্কুল আসার রাস্তা দিয়ে এসে আরো এক বিধিরাম ঘটনা। জমিরউদ্দীন শাহ বালিকা স্কুল এন্ড কলেজের সামনে এসে রসুন হাটের জন্য আর প্রধান সড়কে যাওয়া হচ্ছে না। আর কোন উপায় খুঁজে না পেয়ে ৩নং ইউপি ভবনের পিছন দিয়ে ঘুরে হাসপাতালে আসে। এরমধ্যেই রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে ২/৩ মিনিটের জায়গায় ২৭ মিনিট লেগে গেল। পরে রোগীর লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে।

এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা মোঃ নজমুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, হাসপাতাল হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এর আসে পাশের রাস্তা গুলো সর্বদাই যানজট ও কোলাহল মুক্ত রাখতে হয়। মাঝে মাঝে হাসপাতালের গেটেও পাটের স্তুপ রেখে গেট প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঠিকমত এ্যাম্বুলেন্স ও যানবাহন চলাচল করতে পারে না। আমি এ বিষয়টি উপজেলার মাসিক মিটিংয়ে উপস্থাপন করব।

পাকেরহাট ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, মাদ্রাসার গেট দিয়ে আমরা চলাচল করতে পারি না। বিশেষ করে ছাত্রীদের মাদ্রাসায় প্রবেশের সময় মারাত্বক সমস্যার মুখোমুখী হতে জয়। এতে প্রত্যেক হাটের দিনে ছাত্রীদের উপস্থিতি খুবই কম দেখা যায়।

আকবর আলী শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লতিফা আক্তারের সাথে হলে তিনি জাানান, পাট ব্যবসায়ীদের বারবার বলা সত্যেও স্কুলের গেট বন্ধ করে পাটের স্তুপ রাখা হয়। এতে আমাদের ও শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশে বিঘ্ন ঘটে ও অনেক ছাত্র-ছাত্রীর এলার্জি বেড়ে যায়।

কয়েকজন পাট বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, হাট কর্তৃপক্ষ আমাদের যেখানে জায়গা নির্ধারন করে দিবে আমরা সেখানেই পাট বিক্রি করব ও কিনব।

এ বিষয়ে পাকেরহাট হাট ইজারাদার মোঃ নুরল ইসলামের কথা হলে তিনি বলেন, বাপ দাদার আমল থেকেই আমরা দেখেছি এই রাস্তায় পাট বেচা কেনা করা হয়। জায়গা সংকট থাকায় এখনো এ নিয়ে কোন ভাবা হয় নি। তবে পাটের হাট তো বেশি দিন থাকে না। এক মাসের মধ্যেই পাট বেচা কেনা প্রায় অনেক কমে যায়। এরপর রাস্তা দিয়ে যানবাহন সহ পথচারীরা চলাচল করতে আর কোন সমস্যা হবে না।

পাকেরহাট হাট কমিটির সভাপতি ও ৩ নং আঙ্গারপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান মোস্তফা আহম্মেদ শাহ-এর সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করা হবে। যাতে পথচারী, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও হাসপাতালের রোগীরা সুন্দর ভাবে চলাচল করতে পারে।

পাকেরহাটের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সাথে কথা হলে তারা জানান, পাট হাট যেহেতু সকাল ৬ টা হতে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত চলে আর গরু ও ছাগল হাট বিকেল ৩ টা হতে সন্ধা পর্যন্ত চলে সেহেতু গরু ও ছাগল হাটিতে পাট হাটি লাগানো যায়। এতে হাসপাতালের, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যানবাহন ও পথচারীদের চলাফরায় আর কোন সমস্যা হবে না বলে জানান তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য