আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকেঃ নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এই জগৎ সংসারে টিকে আছে প্রতিবন্ধী রুবেল। প্রতিনিহিত কাজ করে সংসার চালানোর পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছে রুবেল মিয়া। জন্ম গত না হলেও ছোট বেলায় খেলতে গেলে আগুনে দগ্ধ হয়ে যায়।দুই হাত আগুনে ঝলসে যায়।’পরিবারের আর্থিক অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি রুবেলের বাবা-মা।পরিবারের অচেতনা বা অর্থের অভাবে রুবেলকে আজীবনের জন্য প্রতিবন্ধী হতে হলো।শুধু কি এখানেই শেষ!প্রায় দেড় বছর হলো তাঁর বাবাও মারা গেছেন।

বাবা লন্ড্রি ও পানের দোকান করতেন। দারিদ্রতা থাকলেও ভালোই চলতো পাঁচ সদস্যর পরিবারটি। ভাগ্যের কি পরিহাস রুবেলের বাবার অকাল মৃত্যুতে তাকে সংসার দেখা শুনো করতে হয়।রুবেলের অবশ্য তা নিয়ে ভাবার সময় নেই। বেঁচে থাকাটাই ঢের বেশি! তার এই বেঁচে থাকার গল্পটাও করুণ। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার সুকানদিঘী-বারাজান এলাকার মৃত মহাফেজ আলীর ছেলে রুবেল মিয়া।

পরিবারের আর্থিক অভাবে ছোটবেলা থেকে বাবার সঙ্গে সুকানদিঘী বাজারে লন্ড্রি ও পানের দোকান করতে হতো।প্রায় দেড় বছর আগে হঠাৎ রুবেলের বাবার মৃত্যু হয়।সে সময় এসএসসি পরীক্ষাও তাঁর।শারীরিক সীমাবদ্ধতা তার সামনে তুলতে পারেনি বাধার দেয়াল। উপজেলার সুকানদিঘী বাজার এলাকার থার্ড আই কম্পিউটারে সার্ভিসিং পয়েন্টে কাজ করার সময় দেখা হয় রুবেলের সাথে।ওই সার্ভিসিং পয়েন্টের মালিক মারুফ হাসান বলছিলেন, রুবেলের বাবার মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া লন্ড্রি ও পানের দোকানটি তাকেই দেখা শুনো করতে হতো।উত্তরবাংলা কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছে।ওকে দেখে আমার খুব ভালো লেগে যায়।

সুস্থ-সবল থেকেও আমরা লেখাপড়া ও কাজ করি না। কিন্তু ছেলেটি দুই হাতের কব্জি দিয়েই সব কিছুই পারে।প্রতিবন্ধী হলেও বেঁচে থাকার ও লেখাপড়ার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করে। এটা আল্লাহর অশেষ রহমত। আমি প্রায় আমার দোকানে আসার সময় ছেলেটিকে লন্ড্রি ও পানের দোকান করতে দেখতাম এবং মাঝে মধ্যে হাতে বইও দেখতাম। এভাবেই ছেলেটির প্রতি আমার মায়া জন্মে। আমার দোকানে নিয়ে নেই। এখন রুবেল কম্পিউটারের অনেক কাজই পারে এবং উত্তরবাংলা কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ে। প্রতিবন্ধী রুবেল বলেন, লেখাপড়া ও কাজ করতে ভালো লাগে, পড়ার প্রতি আমার আগ্রহ আছে।

তাই কাজের ফাঁকে পড়তে বসি।দুই হাতের কব্জি দিয়ে কাজ করতে সমস্যা হয় না? জানতে চাইলে রুবেল খুব সহজে বলে দেন, জি না সমস্যা হয় না। মুখে না বললেও কষ্ট নিশ্চয়ই হয়। তার মনে তো কষ্টের পাহাড়ই জমে থাকার কথা। কিন্তু রুবেল আবারো অবাক করে দিয়ে বলেন, আমার মনে ওই রকম কষ্ট নেই। কষ্ট মনে করলে কষ্ট। তাই দোকানের কাজটাকে এখন কঠিন কিছু মনে হয় না তার কাছে। দৈনিক ২০০-৩০০ টাকা যা পায়, তাতেই চালিয়ে নেয় এক অসুস্থ মা ও ছোট বোনকে নিয়ে।রুবেলের স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে বলে, টাকার অভাব আর শারীরিক সমস্যার কারণে স্বপ্ন নিয়ে তেমন ভাবার সময় পাইনি তারপরও স্বপ্ন দেখি আমি লেখাপড়া করে সরকারি চাকরি করব।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য