উত্তর কোরিয়া সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের মূলভূখণ্ডের অধিকাংশ এলাকায় আঘাত হানতে পারবে বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষায় এটি প্রদর্শিত হয়েছে বলে সোমাবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন তারা।

তাদের এ মূল্যায়নে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যে ক্রমবর্ধমান হুমকি হয়ে উঠছে তা প্রকাশ পেয়েছে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরো চাপে পড়তে পারে।

শনিবার উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, তারা আরেকটি আইসিবিএমের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে যেটি যুক্তরাষ্ট্রের মূলভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারবে।

উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন শুক্রবার মধ্যরাতে ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎক্ষেপণের তত্ত্বাবধান করার পর বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘কঠোর সতর্কবার্তা’।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ায় হামলা চালানোর চেষ্টা করলে নিজেও নিরাপদ থাকবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন কিম।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ওই দুই মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার মতে, বৈধতা অর্জন ও নিজের দেশকে হামলা থেকে রক্ষার জন্যই পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পন্ন আইসিবিএম উৎপাদন করতে চান কিম, যুক্তরাষ্ট্রে বা তার মিত্রদের ওপর হামলার জন্য নয়; কারণ এ ধরনের কোনো কিছু তার জন্য আত্মঘাতী হবে এটি জানেন তিনি।

এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পেন্টাগন, তবে সর্বশেষ পরীক্ষাটি উত্তর কোরিয়ার কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে দীর্ঘ পাল্লার পরীক্ষা ছিল বলে স্বীকার করেছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে পেন্টাগনের মুখপাত্র জেফ ড্যাভিস বলেছেন, “আমাদের মূল্যায়নের সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো গোপনীয়, আর এর কারণগুলো আপনারা বোঝেন বলে আশা করছি আমি।”

উত্তর কোরিয়া যেটিকে আইসিবিএম বলে দাবি করেছে সেই সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা অন্তত ৫,৫০০ কিলোমিটার বলে স্বীকার করেছেন ড্যাভিস; এই সীমা উত্তর কোরীয় ক্ষেপণাস্ত্রটির নূন্যতম পাল্লা।

উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে আকাশে ছিল, এর আগে ৪ জুলাই উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি ৩৯ মিনিট সময়ের মতো আকাশে উড়েছে।

সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা বেশি থাকার কথা স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আরো দুই কর্মকর্তা। এদের মধ্যে একজন জানিয়েছেন, আগের ক্ষেপণাস্ত্রটি থেকে এটি বেশি উচ্চতায় উঠেছে, এর পাল্লা এবং ক্ষমতাও ছিল বেশি, কারণ এই ক্ষেপণাস্ত্রটিতে ধাক্কা সামলানোর মতো ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যেটি বাতাসের ধাক্কা ও অন্যান্য বল প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য