বিতর্কিত এক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জের ধরে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে মাদুরোর কোনো সম্পদ থাকলে সেগুলোর হিসাব স্থগিত করা হবে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবেন না বলে জানিয়েছে বিবিসি।

গণপরিষদ নামে সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আইন প্রণয়নকারী নতুন একটি পরিষদ গঠন করেছেন প্রেসিডেন্ট মাদুরো। এই পরিষদ দেশটির সংবিধান সংস্কার করতে পারবে এবং বিরোধীদল-নিয়ন্ত্রিত জাতীয় পরিষদকে ভেঙে দিতে পারবে।

রোববার এক নির্বাচনে নতুন গণপরিষদের সদস্যরা নির্বাচিত হয়েছেন। বিরোধীদল এই নির্বাচন বর্জন করেছে। ভোটের দিন সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হন।

মাদুরো এ নির্বাচনকে ‘বিপ্লবের জন্য ভোট’ অ্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, “সাম্রাজ্যবাদীদের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা আমাকে ভীত করে না।

ওয়াশিংটনের এ নিষেধাজ্ঞা প্রতীকি, নাকি যুক্তরাষ্ট্রে মাদুরোর সম্পদ আছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি বিবিসি।

সোমবার টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে মাদুরো বলেন, “সম্রাট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, দেখিয়েছেন তার উদগ্র ঘৃণা। আমি বিদেশি সরকারের আদেশ মেনে চলি না, কখনো চলবো না।

“যত খুশি আমার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করো, ভেনেজুয়েলার জনগণ মুক্ত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আমি সেই মুক্ত জাতির স্বাধীন প্রেসিডেন্ট।”

নির্বাচন বর্জন করা ভেনেজুয়েলার বিরোধী জোটের দাবি, রোববারের ভোটে ৮৮ শতাংশ ভোটার ভোট দেয়নি। অপরদিকে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ভোটের হার ছিল ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ।

ভোটের দিন বিরোধী জোটের সমর্থকরা রাজধানী কারাকাসের বেশ কয়েকটি সড়ক আটকে রাখে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ভোটের দিন নিহতদের স্মরণে সোমবার বিকালে বিক্ষোভের কর্মসূচি থাকলেও পরে তা বুধবার পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে; এদিনই নবনির্বাচিত সাংবিধানিক অ্যাসেম্বলির যাত্রা শুরু হওয়ার কথা।

মাদুরো সরকারের অন্যতম শীর্ষ সমালোচক দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল লুইজা ওর্তেগা রোববারের ভোটকে অ্যাখ্যা দিয়েছেন ‘স্বৈরাচারি আকাঙ্খার প্রতিফলন’ হিসেবে।

মাদুরোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আগেই নির্বাচন নিয়ে সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, এই নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ট্রাম্প দেশটির ওপর ‘দ্রুত এবং শক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা’ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

সোমবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিভেন ম্নুচিন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন।

এর মধ্য দিয়ে মাদুরো সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ, উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন এবং জিম্বাবুয়ের রবার্ট মুগাবের ‘দলে অন্তর্ভূক্ত হলেন’বলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার জানিয়েছেন।

নির্বাচনের আগে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ভেনেজুয়েলার সাবেক ও বর্তমান ১৩ শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়; যাদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং সেনাবাহিনীর প্রধানও আছেন।

দুই দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ভোট নিয়ে সোমবার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও উদ্বেগ জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রোববারের ভোটকে ‘ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ দখলের চেষ্টা’ অ্যাখ্যা দিয়ে নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া হবে কি না তা নিয়ে সংশয় জানিয়েছে।

পশ্চিমা দেশগুলো গণপরিষদের ভোট নিয়ে সমালোচনা করলেও রাশিয়া, কিউবা, নিকারাগুয়া এবং বলিভিয়া মাদুরোর পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য