দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার পল্লীতে কৃষি জমিতে প্রতিযোগিতামূলকভাবে গড়ে উঠছে ইটভাটা। যত্রতত্রভাবে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটা বন্ধে তদারকি করার কেউ নেই?

চিরিরবন্দর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের আয়তন ৩১ হাজার ২৮৫ বর্গ কিলোমিটার। তৎমধ্যে আবাদী জমির পরিমাণ হচ্ছে ২৫ হাজার ৩৯২ হেক্টর। উপজেলার ওই আবাদী জমির মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৫টি ইটভাটা গড়ে ওঠেছে। উপজেলার লালদিঘিী পূজা মন্ডপ এলাকা, আখিড়া দারার পাড়সহ আরো ৭টি এলাকায় ইটভাটা নির্মাণাধীন রয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী ইটভাটা স্থাপনে জেলা প্রশাসকের দেওয়া লাইসেন্স ছাড়া কোন ব্যক্তি ইট তৈরি করতে পারবে না। সেই সাথে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও প্রয়োজন। এছাড়াও ইটভাটা স্থাপন ও ইট তৈরির ক্ষেত্রে কৃষি জমি/আবাদী জমি, পাহাড়, টিলা, মজাপুকুর, নদী-নালা, দীঘি, খাল-বিল, খাঁড়ি এবং পতিত জমি থেকে মাটি কাঁটা নিষিদ্ধ। শুধু তাই নয়- স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত উপজেলা, ইউনিয়ন কিংবা গ্রামীণ রাস্তা ব্যবহার করে ভারি যানবাহন দিয়ে ইট বা ইট তৈরির কাঁচা মালামাল পরিবহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে।

উপজেলার আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নে দিনাজপুর-চিরিরবন্দর সড়কের বেকিপুল নামক স্থানে বসন্তপুর মৌজায় পার্বতীপুর উপজেলার রোস্তমনগর এলাকার বাসিন্দা বিএনপি নেতা মোঃ নাজমুল হুদা আবাদী জমিতে এবং আবাসিক ও বাজার এলাকার অতি সন্নিকটে মেসার্স এন এইচ ব্রিক্স নামে একটি ইটভাটা স্থাপন শুরু করেছেন।

এ ভাটাটির অন্তত ৩ শত গজ দূরে নিম্ন মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। এ ভাটার সন্নিকটে ১০০ গজের মধ্যে কয়েক হাজার বিশিষ্ট বিশাল লিচু বাগান, ল্যাম্ব হাসপাতাল ও ৫০ গজের মধ্যে একটি বড় বাজার রয়েছে। ইটভাটার কাজে নিয়োজিত ট্রাক্টরের বিকট আওয়াজ শব্দ দূষণ করছে এবং বেপরোয়া চলাচলে গ্রামীণ রাস্তাগুলোর বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। ওই ইটভাটা স্থাপনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে স্থানীয় এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর করে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিস, পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবরে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে।

বাগান মালিক আলমগীর, আরিফুল ও সিরাজুল ইসলাম জানান, ইটভাটার কারণে আমার লিচু বাগান নষ্ট হয়ে যাবে। নষ্ট করে ফেলবে আবাদী জমিও। স্থানীয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জনৈক শিক্ষক জানান, উক্ত ইটভাটা দুটি চালু হলে এলাকার পরিবেশের বিরুপ প্রভাব পড়বে। বিদ্যালয়ের শিশুদের শ্বাসকষ্টসহ শরীরের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হবে।

ইটভাটা স্থাপনকারী নাজমুল হুদার ম্যানেজার কামরুজ্জামান জানান, ইটভাটাটি অনুমতির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মালিক বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করায় কাজ মোটামুটি এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

বেকিপুল বাজারের স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তি হারুনুর রশিদ জানান, ইটভাটার ইট তৈরিতে জমির ফসল উৎপাদনের কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। ইটভাটার নির্গত কালো ধোঁয়া পরিবেশ দূষণ করবে। ইটভাটার নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় মানুষ, পশু-পাখি, উদ্ভিদ ও জীব বৈচিত্রের ওপর বিরুপ প্রভাব পড়বে। খাদ্য শস্যসহ বিভিন্ন ফসলাদির উৎপাদনও হ্রাস পাবে। বিধি-বিধানের কোন তোয়াক্কা না করে কতিপয় ধনাঢ্য ব্যক্তি কোন অদৃশ্য শক্তির জোরে আবাদী জমি ও আবাসিক এলাকার সন্নিকটে প্রতিযোগিতামূলকভাবে ইটভাটা গড়ে তুলছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান, ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে আইন, বিধি-বিধান কোনটিই মানা হচ্ছে না। আইন প্রয়োগ করতে গেলে প্রভাবশালী নেতাদের চাপে অনেক বাঁধা-বিপত্তির সম্মুখিন হতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রত্যয়ন দেয়া বন্ধ রয়েছে। ওই ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কোন প্রত্যয়ন দেওয়া হয়নি।

অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন বা নির্মাণ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো.গোলাম রব্বানী জানান, নীতিমালা অনুযায়ী কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপনের সূযোগ নাই। কেউ এমন করে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিজ্ঞমহল আবাদী জমি উদ্ধারসহ ওই এলাকায় নির্মাণাধীন উক্ত ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য