মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাস্টাস দিয়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের প্রত্যাশা নামে এক তরুণী।

স্বামী পরিত্যক্তা প্রত্যাশা ঠাকুরগাঁও শহরের কলেজপাড়া এলাকার ইয়াসিন আলী মেয়ে।

এদিকে গত ২৯ জুলাই রবিবার এ ঘটনার পর মৃত প্রত্যাশাকে নিয়ে ফেসবুক মহলে তার বন্ধু বান্ধব ও শুভাকাঙ্খিরা প্রত্যাশিত ও অপ্রত্যাশিত বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। যা ভাইরালে
পরিণত হয়েছে।

অনেকে প্রত্যাশার মৃত্যুর আগের স্ট্যাটাসটিতে মন্তব্য করেছেন। অনেকে আবার শেষ নি:শ্বাস ত্যাগের পর তার আতœার শান্তি কামনা করে নানান কথা লিখেছেন। অনেকেই প্রত্যাশা আক্তারের মৃত্যুর কারণ জানতে চেয়েছেন।

ব্যারিস্টার নূর উস সাদিক (আদিত্য নূর) নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী তার ওয়ালে লিখেছেন, মেয়েটি মাঝে মধ্যেই আমাকে ইনবক্সে নক করতো, বলতো গুরু!

আমি ওকে শুনেছিলাম। ওর জীবনালেখ্য বাংলাদেশের অর্থাভাবগ্রস্ত আর দশটা পরিবারের মেয়ের চেয়ে আলাদা কিছুই না! বলেছিলাম, তুমি সাহসী হও নয়তো অন্যদের সাহস তোমাকে খুবলে খাবে ।

সমস্যাটা হলো, ও মুখস্থ জীবন টপকে বের হতে পাড়ছিলোনা কিছুতেই অথবা পারিবারিক অসহযোগিতা তাকে বাধ্য করছিলো গুটিয়ে থাকতে বা মেনে নিতে !

অসম্ভব আবেগী, সম্ভাবনাময় মেয়েটির আত্মহত্যাও আমাদের মেনে নিতে অভ্যস্ত হতে শিখতে হয় ! এই মৃত্যুগুলোও জীবনেরই অংশ এটা মানতেই যত বিরোধ।
প্রত্যাশা আক্তার, মরে গিয়ে বেঁচে যেতে চাওয়া মেয়েটি একদিন খুব চেয়েছিলো অমরতা !

তার ওই লেখাটিতে Ruhul Mohtasim Raju নামে একজন মন্তব্য করেছেন,vai she was adicted !apni janten?

ফিরতি কমেন্টে আদিত্য নূর লিখেছেন, এ বিষয় টা আমার জানা ছিলোনা!

এর পর Ruhul Mohtasim Raju উত্তরে বলেছেন, amio vablam hoyto apni janten na.tai bollam?

প্রত্যাশা আক্তারের ফেসবুকের এক ছোট ভাই Rehan Rahaman Rik লেখেছেন, “যেখানেই থাকিস ভালো থাকিস

আর এভাবে চলে যাওয়া টা কখনও আশা করি নি এভাবে চলে যাবি। তোর ভাইটা তোকে বাচাইতে পারলো না, মাফ করে দিস আপু।”

Sappo Boda Sappo Boda লিখেছেন, “সবাইকে একদিন এ দুনিয়া থেকে চলে যেতে হবে যাওয়ার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আল্লাহ্ তাকে বেহেস্ত নসিব করুক”।

Contek Russel নামে একজন লিখেছেন “আমার অত্যন্ত কাছের দিদিমনি সদা হাস্যজ্বল প্রত্যাশা আক্তার আর বেচেঁ নেই। ভাবতেই অবাক লাগছে যে,তুই আর দাদা বলে ডাকবিনা কোনদিন আর কেউ রে দিদি। রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে আজ সকালে মারা যায়।দিদি রে,আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করুন”।

ফরহাদ আহাম্মেদ চৌধুরী রিংকু নামে এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তার টাইম লাইনে লিখিছেন, “প্রত্যাশা আক্তার। । প্রত্যাশা তোর অপ্রত্যাশিত মৃত্যু।। ভাল হলো না! অপারে ভাল থাকিস”।।

Wahid Sadik Swapnil প্রত্যাশার মৃত্যু নিয়ে লিখেছেন, ‘বুঝতেসি না,,আত্মহত্যা এতো বারে গেল কেন? কারও যদি নিজের জীবনটা এতোই উৎসর্গ করার ইচ্ছা জাগে তাহলে অন্যের কল্যাণের জন্য উৎসর্গ করো… at least এইটাতে শান্তি পাবা যখন দেখবা তোমার sacrifice এর কারণে আরেকজনের happiness আসতেসে। পরিশেষে সেই মূল্যহীন জীবনকেই মূল্যবাণ মনে হবে’।

ঠাকুরগাঁও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর কাউন্সির Drowpodi Agarwal প্রত্যাশার মৃত্যু নিয়ে লিখেছিলেন, “প্রত্যাশা আক্তার মেয়েটি খুব কম বয়সে রাজনীতি অঙ্গনে প্রবেশ করেছিল। তার মৃত্যু মেনে নেওয়ার মত না।

প্রত্যাশা আক্তারের মৃত্যুর পর আমাদের এই প্রতিবেদক সরেজমিন অনুসন্ধান চালায়। অনুসন্ধানে ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষ ভাল, মন্দ নানা রকম কথা বলেছেন ও তার অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। মৃত্যুর পেছনের রহস্য বের করার জন্য আইনশৃঙ্খলবাহিনী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিদের তুলে ধরার অনুরোধ করেছেন অনেকেই।

নাম প্রক্যাশে অনিচ্ছুক প্রত্যাশার এক বান্ধবী বলেছেন, কিছুদিন ধরেই প্রত্যাশাকে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী বন্ধু নানা ভাবে ব্ল্যাক মেইল করে কোন জানি গোপন ভিডিও প্রকাশ করে দিবে। সেই থেকে প্রত্যাশা খুব বিচলিত হয়ে পড়ে ও খুব কাছের বন্দু বান্ধবীদের কাছে পরামর্শ চায়। এরপর সে গত ২২ জুলাই ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে ঘুমের ওষুধ খায়। অবশেষে সবাইকে রেখে না ফেরার দেশে চলে যায়।

নাম প্রক্যাশে অনিচ্ছুক আর এক ব্যক্তি বলেছেন, মেয়েটির চলা ফেরা তেমন একটা ভালো ছিল না। বিভিন্ন বয়সের ছেলেদের সঙ্গে চলাফেরা লক্ষ্য করা গেছে বিভিন্ন জায়গায়।

প্রত্যাশা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় ঠাকুরগাঁও থানাকে অবগত করা হয় নাই বলে থানার তদন্ত ওসি সিফাতুল মাজদার সিফাত জানিয়েছেন। ২৯ জুলাই রবিবার রংপুর থেকে মরদেহ নিয়ে এসে প্রত্যাশার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে দাফন কাজ সম্পূর্ণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২২ জুলাই দিনটি ছিল শনিবার। সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে “প্রত্যাশা আক্তার” তার নিজ টাইম লাইনে লিখেছিলেন, “সব বলা হয় তো শেষ হয় না।।। অবশেষে শেষ নি:শ্বাস” (কেউ কমেন্ট করবেন না প্লিস)। এর পরেই প্রায় সে ৪০টি ঘুমের ওষুধ খায় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

তখন প্রত্যাশা আক্তারকে পরিবারের লোক ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ওইদিন রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। দীর্ঘ ৭ দিন রংপুর মেডিকেল কলেজে নিবিড় পর্যক্ষেনের পর ২৯ জুলাই সকালে না ফেরার দেশে চলে যায় প্রত্যাশা আক্তার নামে ওই যুবতী। প্রত্যাশা আক্তার ঠাকুরগাঁও শহরের কলেজে পাড়া এলাকায় থাকতেন। তার বাবা ইয়াসিন আলী বিএডিসি কার্যালয়ের একজন কর্মচারি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রত্যাশা আক্তার শহরের সিএম আইয়ূব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

আরো জানাযায়, কয়েক বছর আগে ঠাকুরগাঁও শহরের পৌর কাউন্সিলর সাজু’র ছেলে তন্ময়ের সাথে প্রত্যাশা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এর পর তাদের ঘরে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। অসুস্থতার কারণে কিছুদিন পরে কন্যা সন্তানটির মৃত্যু হয়। গত দুই বছর আগে পারিবারিক কলহের জেরে প্রত্যাশা স্বামীর বাসা ছেড়ে তার বাবার বাসায় থাকতে শুরু করে।

এ বিষয়ে প্রত্যাশার স্বামী তন্ময়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায় নাই।

প্রত্যাশার বাবা কাছে মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আমি কিছুই বলতে পারছি না। আমার মেয়ের মৃত্যুতে আমি খুব শোকাহত।

বি:দ্র : মৃত্যুর মূল রহস্যের খুজতে গিয়ে অনেক গোপন তথ্য বেড়িয়ে এসেছে। অনুসন্ধান শেষে বিস্তারিত আসছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য