আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: বাংলাদেশ-ভারত ঐতিহাসিক ছিটমহল বিনিময়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি আজ ৩১ জুলাই। এদিন বাংলাদেশের সীমানাভুক্ত হয় ১১১টি ছিটমহল। আনুষ্ঠানিকভাবে এদেশের নাগরিক হন সেই সব ছিটমহলের বাসিন্দারা। মুক্তি মেলে দীর্ঘ ৪১ বছরের পরিচয়হীনতা থেকে।গত দু বছরে বিলুপ্ত ছিটমহল গুলোতে নানা উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে।

তবে লালমনিরহাটের ৫৯টি ছিটমহলসহ সাবেক মোট ১১১টি ছিটমহলের বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে জমির মালিকানা ও ভাগ-বণ্টনের সমস্যা। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবেই এ সংকট।দু বছর আগের এই দিনে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পন্ন হয় ১৬২টি ছিটমহল বিনিময়। পছন্দের দেশের নাগরিকত্ব অর্জন ও বাসিন্দা হওয়ার মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে দীর্ঘ ৪১ বছরের প্রতীক্ষার।

মধ্যরাতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন আর পরদিন ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে ১৬২টি ছিটমহলের মানুষ উদযাপন করেন সেই আনন্দময় দিন।এর পর সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে এসব এলাকায়। জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে।

নির্মাণ করা হয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক, রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।তবে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জমির মালিকানা নির্ধারণ। জমির খতিয়ান, মাঠ রেকর্ডের পরচা এবং খারিজের কাগজপত্র না পাওয়ায় ওয়ারিশদের মাঝে জমি বণ্টন করা যাচ্ছেনা। সম্ভব হচ্ছে না জমি ক্রয়-বিক্রয়ও।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ” সংকট সমাধানে ভূমি জরিপের কাজ শেষ হয়েছে। অল্পদিনের মধ্যেই মালিকদের হাতে জমি বণ্টনের কাগজপত্র দেয়া হবে।”এ ছাড়াও সদর উপজেলা ও হাতিবান্ধায় একটি করে এবং পাটগ্রামেে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে, পাটগ্রামে দু’টি ও হাতিবান্ধায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করার কথাও জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য