দেলোয়ার হোসেন বাদশা, চিরিরবন্দর থেকেঃ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার সাতনালা গ্রামের তারকশাহার হাট এলাকার ইছামতি নদীর উপরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত ৩০০ ফুট বাঁশের সাঁকো এখন এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র ভরসা। এপারে আলোকডিহি ওপারে সাতনালা দুই ইউনিয়নের মাঝে ইছামতি নদী। শুস্ক মৌসুমে নদীতে পানি থাকায় নদীর উপর দিয়ে দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ যোগাযোগ করতো। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে নদী ভরাট হলে দুই ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। তাই গ্রামবাসী নিজেরাই টাকা তুলে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করছেন এ বাঁশের সাঁকো।

এটি নির্মাণের ফলে দুই ইউনিয়নের প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার লোক এই সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচল করছে। এদিকে এই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ না হলে পাচঁ গ্রামের মানুষকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ ঘুরে ওই নদীরই ঘাটেরপাড় কলেজমোড় সেতু দিয়ে চলাচল করতে হতো। অথচ এই দুই ইউনিয়নের সংযোগস্থল পাঁচ মিনিটের পথ বাশেঁর সাঁকো পার হলেই তারকশাহার হাটসহ আলোকডিহি ইউনিয়ন থেকে সাতনালা ইউনিয়ন পরিষদে সহজেই যাতায়াত করা যায়।

সাতনালা ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এ সাঁকো দিয়ে এলাকার বেকিপুল বাজার, কেষ্টহরি বাজার, চাম্পাতলী বাজার, বিন্যাকুড়ির হাট, তারকশাহার হাট, মডেল স্কুল, ইছামতি ডিগ্রি কলেজ, ইছামতি ফাযিল মাদ্রাসা, রানীরবন্দর সুইহারী বাজারসহ পাঁচ গ্রামের ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষকে প্রতিদিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকে লেনদেন, বাজারঘাটসহ বিভিন্ন কাজের জন্য এ বাঁশের সাঁকো দিয়েই পার হতে হয়।

স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণকারী আইনউদ্দিন, হাবিবুর, জাহাঙ্গীর, নিমাই চন্দ্র জানান, নিজেদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ও আর্থিক সহযোগিতায় আমরা ২০ দিন ধরে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ মিলে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করেছি। এর ফলে এলাকার মানুষের কিছুটা হলেও দুর্ভোগ লাঘব হবে। ইউপি সদস্য মো: আইজার রহমান জানান, বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে যাওয়ার দ্রীর্ঘ ২০ বছর পর জনদুর্ভোগ লাঘবে আবার স্থানীয়দের সহায়তা নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে।

সাতনালা ইউপি চেয়ারম্যান মো ফজলুর রহমান বলেন, জনগণের নিজেদের উদ্যোগেই এই সাঁকোটি নির্মিত হওয়ায় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কোনো অর্থায়ন করা সম্ভব হয়নি। কেননা এ খাতে কোনো বরাদ্দ নেই। তবে চেয়ারম্যান এলাকাবাসীকে স্বাগত জানিয়ে স্বেচ্ছাশ্রম এ কাজের প্রেরণা জুগিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য